অসময়ে বৃষ্টিতে আলু চাষিদের উপর মরার উপর খরার ঘা
প্রকাশ : 2026-03-18 20:29:35১ | অনলাইন সংস্করণ
নিউজ ডেস্ক
রংপুরের কাউনিয়ায় আলুর বাম্পার ফলন হলেও বাজারে মূল্য অস্বাভাবিক হারে কমে যাওয়ায় চাষীরা উৎপাদন খরচ তুলতে না পেরে বিপাকে পড়েছেন। তার উপর হঠাৎ করে অসময়ে বৃষ্টিতে আলু চাষিদের উপর মরার উপর খরার ঘা। শীর্ষ আলু উৎপাদনকারী কৃষকরা দুঃখজনক পরিস্থিতিতে পড়ে নিজদের আর্থিক ভবিষ্যৎ নিয়ে চরম দুঃচিন্তায়। বৃষ্টিতে যেসব আলু পানিতে ডুবে গেছে সেই আলু পচে যাওয়ার শঙ্কা তৈরি এবং কৃষকদের মাথায় হাত পড়েছে। সরেজমিনে বিভিন্ন গ্রাম ঘুরে দেখা গেছে গত তিনদিনের হঠাৎ বৃষ্টির পানিতে তলিয়ে গেছে বিস্তীর্ণ উর্তি ফসলের মাঠ। বিশেষ করে আলু উত্তোলনের মৌসুমে এমন বৃষ্টিতে পানির নিচে ডুবে গেছে আলুর খেত ও মাঠে তুলে রাখা আলু। ফলে চরম বিপাকে পড়েছেন চাষিরা। সারাই চারু ভদ্র গ্রামরে আলু চাষি হারুন আর রশিদ জানান, আলুর দাম যেভাবে কমেছে এবং হঠাৎ বৃষ্টিতে আলুর ক্ষেত তলিয়ে যাওয়ায় বড় ধরনের লোকসানের মুখে পড়েছেন। আশা এনজিও থেকে ঋণ নিয়ে ৪৮শতক জমিতে ৮০ হাজার টাকা খরচ করে আলু চাষ করেছেন, ফলনও ভালই হয়েছে কিন্তু বৃষ্টির পানিতে আলু তলিয়ে গিয়ে সেই আলু কিভাবে বিক্রি করবেন তা নিয়ে চরম দুঃচিন্তায় পড়েছেন। লাভতো দুরের কথা পুঁজি উদ্ধার আর ঋণ কিভাবে পরিশোধ হবে ? অপূরণীয় ক্ষতিতে কপালে চিন্তার ভাজ পড়ছে। হরিশ^র গ্রামের আলু চাষী সোহরাব হোসেন মুদি বলেন, তিস্তার চরে আলুর ফলন ভালো হওয়ায় আমাদের খুশি হওয়ার কথা ছিল, অথচ তার বদলে এখন দাম কম আর বৃষ্টির কারনে আহাজারি করতে হচ্ছে। উৎপাদন খরচই উঠবে না, ফলে তাকে ব্যাপক লোকসান গুনতে হবে। গনাই গ্রামের আলু চাষি দুদু মিয়া জানান, চলতি মৌসুমে ফলন ভালো হয়েছে। কিন্তু দাম না থাকায় একেবারে ধরা খেয়ে গেছি। এছারাও অনেক সময় সংরক্ষণের জন্য পর্যাপ্ত ব্যবস্থা না থাকায় কিছু আলু নষ্ট হয়ে যায়। সরকার বাজার স্থিতিশীল রাখতে হিমাগারের ভাড়া পুনঃনির্ধারণ করেছে। কিন্তু হিমাগার মালিকরা বলেছেন, তাদের খরচ বেড়ে গেছে, তাই ভাড়া বাড়ানো ছাড়া উপায় নেই। কৃষকদের ক্ষতির বিষয়টি নিয়ে সিপিডি নির্বাহী পরিচালক ড. ফাহমিদা খাতুন বলছেন, এটা সরকারের অজানা থাকার কথা না। এরপরও প্রতিবছর একই ঘটনা ঘটছে, যা খুবই দুঃখজনক। তার মতে, কৃষিক্ষেত্রে সঠিক পরিকল্পনা ও সমন্বয়ের অভাবে এই সংকট সৃষ্টি হচ্ছে। দেশে বছরে আলুর চাহিদা কত এবং সেটার বিপরীতে কী পরিমাণ জমিতে আলু চাষ হচ্ছে, সেই তথ্য সরকারের কাছে নেই? সঠিক পরিকল্পনা গ্রহণের মাধ্যমে এমন সংকটের পুনরাবৃত্তি রোধ করা সম্ভব। কৃষকরা জানায় টানা বৃষ্টির কারণে লক্ষ্যমাত্রার অর্জিত ফসল নষ্ট হয়ে গেছে। কৃষক তাজরুল ইসলাম জানান, বাজারে দাম কম থাকায় লোকসান পুষিয়ে নিতে আলু হিমাগারে রাখার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। কিন্তু হঠাৎ বৃষ্টিতে সব শেষ হয়ে গেছে। এখন কীভাবে ঋণ পরিশোধ করবেন, সেই চিন্তায় দিশেহারা। আলু যেহেতু পঁচনশীল সবজি, তাই কৃষক বেশিদিন আলু ঘরে রাখতে পারে না। দ্রæত তাকে আলু বিক্রি করতে হয়। এই সময়ে ব্যবসায়ী সিন্ডিকেট আলুর বাজারে ধস নামিয়ে দেয়। লোকসান করতে করতে আলুচাষীরা আলুচাষের আগ্রহ হারিয়ে ফেলছে। ইতোমধ্যে এলাকায় আলুর পরিবর্তে চাষিরা তামাক চাষ শুরু করেছে। যা আমাদের কৃষির জন্য অশনিসংকেত। রংপুর জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে আলুর লাভজনক দাম নিশ্চিত করাসহ পাঁচ দফা দাবিতে মানববন্ধন সমাবেশ হয়েছে। রংপুরে আলুর বাম্পার ফলন হলেও কৃষক লাভের মুখ দেখতে পারে না। কৃষি কর্মকর্তা তানিয়া আকতার বলেন, বৃষ্টির পর থেকেই কৃষকদের দ্রæত জমি থেকে পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা করতে পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। পানি নেমে গেলে ফসলের তেমন ক্ষতি হবে না। এছাড়া ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের তালিকা প্রণয়ন করা হচ্ছে এবং মাঠপর্যায়ে কৃষি কর্মকর্তারা কাজ করছেন। অনেকে বলছেন বর্তমান সরকার যেহেতু কৃষি কার্ড দেয়া ঘোষনা দিয়েছেন সেটি যেন ক্ষতিগ্রস্ত আলু চাষিদের আগে দেয়া হয় এবং কৃষি বীমা চালুর দাবী তাদের। কৃষকদের ন্যায্য মূল্য পাওয়ার জন্য সরকারকে আরো উদ্যোগী হতে হবে।