কাউনিয়ায় লোকালয়ে কারখানার কালো ধোঁয়ায় ধুঁকছে মানুষ

প্রকাশ : 2026-02-08 18:10:13১ |  অনলাইন সংস্করণ

  নিউজ ডেস্ক   

কাউনিয়ায় লোকালয়ে কারখানার কালো ধোঁয়ায় ধুঁকছে মানুষ

রংপুরের কাউনিয়া উপজেলার রেলগেট এলাকায় অ্যাসফন্ট মিক্সিং প্লান্ট ম্যাশিনে বিটুমিন (পিচ) জুতা ছেন্ডেল পুড়িয়ে তৈরী করা হচ্ছে রাস্তার মিক্সার। প্রকাশ্য লোকালয়ে এই কারখানা থেকে নির্গত কালো ধোঁয়া ও ছাইয়ে দূষিত হচ্ছে পরিবেশ। নানা রোগে আক্রান্ত হচ্ছেন স্থানীয়রা। বিষাক্ত ধোঁয়া ও ছাইয়ে অতিষ্ঠ কয়েকটি গ্রামের বাসিন্দারা। দীর্ঘ ৮বছর ধরে প্রকাশ্যে এ কারখানা পরিচালনা হলেও অজ্ঞাত কারণে এটি বন্ধে কেউ ব্যবস্থা নেয়নি বলে অভিযোগ স্থানীয়দের। ওই ধোঁয়া এবং ছাইয়ের কারণে এলাকাবাসী হাঁচি-কাশিসহ বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হচ্ছেন। এরই মধ্যে এলাকার বৃদ্ধ ও শিশুদের শ্বাসকষ্ট দেখা দিয়েছে। এছাড়া নষ্ট হচ্ছে ফসলি জমি।

সরেজমিনে রেলগেট এলাকায় গিয়ে দেখা গেছে চারপাশে শান্ত সবুজ প্রকৃতি। আশপাশে বাণিজ্যিক ও জনবসতি। আছে ফসলি জমি ও বেশ কয়েকটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। এর মধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে রাস্তার উপকরণ তৈরির কারখানাটি। কংক্রিট মিক্সার কারখানার চুল্লিতে জুতা ছেন্ডেল বিটুমিন পুড়িয়ে তৈরি করা হচ্ছে রাস্তার উপকরণ। চুল্লির কালো ধোঁয়া ছড়িয়ে পড়ছে এলাকায়। এতে এলাকার পরিবেশ মারাত্বক ভাবে দূষিত হচ্ছে। দীর্ঘ কাল ধরে কালো ধোঁয়ায় দুর্ভোগ পোহাচ্ছে হলদীবাড়ি, সাহাবাজ ও খোপাতি গ্রামের হাজারো মানুষ। কারখানার কালো ধোয়ায় গাছের ফলন ও জমির ফসল নষ্ট হওয়ারও আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। স্থানীয় আঃ হাকিম জানান এই কারখানার ৫০০ গজ দূরে হলদীবাড়ি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও উচ্চ বিদ্যালয় এবং ৬০০ গজ দূরে কাউনিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও মোফাজ্জল হোসেন উচ্চ বিদ্যালয়, পাশেই রেলগেট বাজার এবং কারখানার চারদিকে উঠতি ফসলের মাঠ ও বসতবাড়ি। দীর্ঘদিন ধরে এই কারখানায় জুতা ছেন্ডেল পুড়িয়ে তৈরি রাস্তার উপকরণ। চুল্লিতে জুতা ছেন্ডেল পোড়ানোর সময় প্রচুর কালো ধোঁয়া নির্গত হয়। চুল্লির উচ্চতা মাত্র সাত-আট ফুট। চুল্লি থেকে বের হচ্ছে কালো ধোঁয়া। সাহাবাজ গ্রামের কয়েকজন বাসিন্দা বলেন, এই কারখানার ধোঁয়ার কারণে ঘরের বাইরে শিশুদের নিয়ে যাওয়া যায় না। কারখানাটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও জনবসতিপূর্ণ এলাকায় স্থাপিত হয়েছে। জেলা প্রশাসন ও পরিবেশ অধিদপ্তরের অনুমোদন না নিয়েই কারখানাটি গড়ে তোলা হয়েছে। পরিবেশের মারাত্বক ক্ষতি করলেও কর্তৃপক্ষ দেখেও না দেখার ব্যান করছে। 

কাউনিয়া মেডিকেলের ডাক্তার মমিনুল ইসলাম বলেন, চুল্লি থেকে নির্গত ধোঁয়ায় আশপাশের মানুষের শ্বাসকষ্টের সমস্যা দেখা দিতে পারে। কৃষি কর্মকর্তা তানিয়া আকথার বলেন, চুল্লির উচ্চতা বজায় না রাখলে কালো ধোঁয়ায় ধানসহ বিভিন্ন ফসলের ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে। অবিলম্বে পরিবেশের ভারসাম্য নষ্টকারী অবৈধ কারখানাটি বন্ধের দাবি জানান স্থানীয় গ্রামবাসীরা। প্রশাসন ও পরিবেশ অধিদপ্তরের দ্রæত পদক্ষেপ নেওয়া দরকার। এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা পাপিয়া সুলতানা জানান সুষ্ঠু তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।