নশরতপুর রেল ষ্টেশনের উপর কোরবানীর গরুর হাট

প্রকাশ : 2026-05-21 19:07:50১ |  অনলাইন সংস্করণ

  নিউজ ডেস্ক   

নশরতপুর রেল ষ্টেশনের উপর কোরবানীর গরুর হাট

বিশ্বাস করেন আর নাই করেন এবছরও বগুড়ার আদমদীঘি উপজেলার নশরতপুর রেল স্টেশনের উপর ঝুঁকিপূর্ণ জায়গায় কোরবানির পশুর হাট বসানো হয়েছে। এ যেন দেখার কেউ নেই। প্রতি বছরই এই ঝুঁকিপূর্ন জায়গায় পশুর হাট বসানোকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন পত্রিকায় সংবাদ প্রকাশ হলে এর কোন প্রতিকার মেলে না। এলাকার সচেতন মহল মনে করেন এই ঝুঁকিপূর্ণ জায়গায় কোরবানীর এই পশুর হাট সরিয়ে অন্যত্র নেয়ার দাবী জানান। 

জানা গেছে, আদমদীঘি উপজেলার নশরতপুর ইউনিয়নের নশরতপুর রেলওয়ে ষ্টেশনের উপর প্রতি সোমবার ও শুক্রবার দু’দিন হাট বসছে। কোরবানির পশু বেচাকেনা চলছে। পৃথিবীতে এমন বিপদজনক হাট আর কোথাও পাবেন না। ট্রেনে কাটা পরে যে কোন সময় কারো প্রাণ যেতে পারে। আর বড় ধরনের দূর্ঘটনায় শত শত রেলযাত্রী ও হাটুরের প্রাণহানীও হতে পারে। কারণ এ ষ্টেশন ও রেললাইন দিয়ে হাটের সময় আট জোড়া অর্থাৎ ১৬ টি ট্রেন যাতায়াত করে। এর মধ্যে ৫ জোড়া অর্থাৎ ১০টি দ্রæতগামী আন্ত:নগর ট্রেন যাতায়াত করে। শতবর্ষী নশরতপুর হাটের গো-হাট লাগানোর কোন জায়গা নাই। আগে খরা মৌসুমে কলেজ মাঠ ও ফাঁকা ধানের জমিতে কোরবানী উপলক্ষে গো-হাট বসত। আওয়ামী আমল থেকে আওয়ামী রাক্ষসরা রেল ষ্টেশনের উপর হাট বসানো শুরু করে। যা এখন উপজেলা নির্বাহী অফিসারকে হাত করে বর্তমান সরকার দলীয় স্থানীয় নেতারা বহাল রেখেছে। যদিও এবার এ হাট ইজারা হয়নি। যা নশরতপুর স্থানীয় নেতারা তত্ত¡াবধান করছে। কোরবানী ঈদের আগে ৮টি হাটবারে সোমবার ও শুক্রবার হাজার হাজার গরু বকরি ভেড়া বিক্রি হয়। হাজার হাজার লোক সমাগম হয়। 

এলাকার সচেতন নাগরিক আব্দুল খালেক জানান, নশরতপুর রেল ষ্টেশনের উপর কোরবানীর হাটে কোন ধরণের প্রাণহানী বা দূর্ঘটনা ঘটলে কে নেবে দায় দায়িত্ব? মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, রেলমন্ত্রী, প্রধান বিচারপতির নিকট আকুল আবেদন এসব দায়িত্বহীনদের কবল থেকে নশরতপুর অনুমোদনহীন হাট রেল ষ্টেশনের রেললাইনের উপর থেকে সরিয়ে দূর্ঘটনার কবল থেকে মানুষ ও গবাদী পশুদের বাঁচান।

এব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী অফিসার মাসুমা বেগম জানান, নশরতপুর কোরবানীর পশুর ইজারা দেয়া হয়নি। তবে স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান, রেলওয়ে জিআরপি থানা সহ রেলের আরো পদস্থরা এব্যাপারে অবগত আছে। তিনি আরোও জানান, হাট কর্তৃপক্ষকে বলা হয়েছে শতর্কতা মেনে হাট পরিচালনা করবে তারা। এছাড়া আমরা আগামীকাল শুক্রবার হাট পরিদর্শনে যাব।