‘পুরোদমে’ ভিসা কার্যক্রমে ফেরার উদ্যোগ ঢাকা-দিল্লির

প্রকাশ : 2026-05-02 17:48:19১ |  অনলাইন সংস্করণ

  নিউজ ডেস্ক   

‘পুরোদমে’ ভিসা কার্যক্রমে ফেরার উদ্যোগ ঢাকা-দিল্লির

বাংলাদেশ সব ধরনের ভিসা দিচ্ছে এবং ভারতও কয়েক সপ্তাহের মধ্যে পুরোদমে ভিসা কার্যক্রমে ফিরবে বলে ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের খবরে বলা হয়েছে।

প্রায় দেড় বছর টানাপোড়েনের পর দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক স্বাভাবিক করার অংশ হিসেবে পুরোদমে ভিসা কার্যক্রমে ফেরার উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ ও ভারত।

বাংলাদেশ এরই মধ্যে সব ধরনের ভিসা দেওয়া শুরু করেছে এবং ভারতও কয়েক সপ্তাহের মধ্যে ধাপে ধাপে পুরোদমে ভিসা কার্যক্রমে ফিরবে বলে ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের খবরে বলা হয়েছে।

ভারতভিত্তিক সংবাদমাধ্যমটি লিখেছে, গেল মাসে দিল্লি সফরের সময় বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান যেসব বিষয় তুলে ধরেছিলেন, ভিসা স্বাভাবিকীকরণের বিষয়টি সেই তালিকার উপরের দিকে ছিল।

নয়াদিল্লি, কলকাতা, আগরতলা ও চেন্নাইসহ বাংলাদেশের সব ভিসা কেন্দ্র বর্তমানে চালু রয়েছে। ফলে ভিসা কার্যক্রমে ফিরতে নয়াদিল্লির কাছ থেকে দ্রুত প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ দেখতে চাইছে ঢাকা।

ভারতে বাংলাদেশের হাই কমিশনার রিয়াজ হামিদুল্লাহ ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসকে বলেন, “গত বছরের ডিসেম্বরে আমাদের কিছু কেন্দ্রে ভিসা কার্যক্রম সাময়িকভাবে স্থগিত করতে হয়েছিল। পরে ফেব্রুয়ারিতে তা পুনরায় চালু করা হয়েছে।”

ভারতের ভিসা কার্যক্রমে ফেরার বিষয়ে কূটনীতিকদের বরাতে ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস লিখেছে, বাংলাদেশে নতুন হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী দায়িত্ব গ্রহণের পরেই এই সেবা পুরোদমে চালু হতে পারে।

২০২৪ সালের জুলাই আন্দোলনে আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন সরকারের পতন ঘটলে ভারত ও বাংলাদেশের কূটনৈতিক সম্পর্কে দূরত্ব তৈরি হয়।

গেল ডিসেম্বরে ইনকিলাব মঞ্চের নেতা শরীফ ওসমান হাদির মৃত্যু ঘিরে এই দূরত্ব আরো বেড়ে যায়।

সিঙ্গাপুরে চিকিৎসাধীন হাদির মৃত্যুর খবর আসার পর ১৮ ডিসেম্বর রাতে ঢাকায় দুটি পত্রিকা অফিস এবং ছায়ানট ভবনে হামলা হয়।

একই রাতে চট্টগ্রামে ভারতীয় সহকারী হাই কমিশন কার্যালয়ের সামনে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ দেখায় একদল মানুষ, সেসময় মিশনে ঢিলও ছোড়া হয়।

এরপর চট্টগ্রামে ভারতীয় ভিসা আবেদন কেন্দ্রের (আইভ্যাক) কার্যক্রম ২১ ডিসেম্বর থেকে পরবর্তী ঘোষণা না দেওয়া পর্যন্ত স্থগিত করা হয়।

পরের দিন পাল্টা পদক্ষেপ হিসেবে দিল্লি ও আগরতলা মিশন থেকে ভিসা ও কনস্যুলার সেবা স্থগিত রাখার ঘোষণা দেয় বাংলাদেশ।

এর মধ্যে নির্বাচনে বিএনপির নিরঙ্কুশ জয়ের মধ্যে দিয়ে দুই দেশের সম্পর্কের বরফ গলতে শুরু করে।

ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনের পূর্ণাঙ্গ ফল আসার আগে ১৩ ফেব্রুয়ারি সকালে তারেক রহমানকে এক বিবৃতিতে অভিনন্দন জানান ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী।

এরপর পূর্ণাঙ্গ ফল ঘোষণার পর বিকালে তারেকের সঙ্গে টেলিফোনে কথা বলেন তিনি। ওই ফোনালাপে তাকে অভিনন্দন জানানোর পাশাপাশি তার কাজে সমর্থনের দেওয়ার কথা বলেন।

অন্যদিকে নতুন সরকারের শপথ অনুষ্ঠানে যোগ নরেন্দ্র মোদীকে আমন্ত্রণ জানায় ঢাকা। তবে ‘এআই ইমপ্যাক্ট সামিটের’ কারণে তিনি শপথ অনুষ্ঠাতে আসতে পারবেন না বলে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তরফে জানানো হয়। তবে মোদীর পরিবর্তে শপথ অনুষ্ঠানে ভারতের প্রতিনিধিত্ব করেন দেশটির লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লা।

সেই ধারবাহিকতায় ফেব্রুয়ারি মাসে দিল্লিতে ভিসা ও কনস্যুলার সেবায় ফেরে বাংলাদেশ হাই কমিশন। এখন কয়েক সপ্তাহের মধ্যে ভারতেরও পুরোদমে ভিসা কার্যক্রমে ফেরার খবর এল।