বিজ্ঞান-প্রযুক্তি শুধু অর্থনৈতিক উন্নয়নের চালিকাশক্তি নয়, মানবকল্যাণের অন্যতম ভিত্তি: মন্ত্রী মাহবুব
প্রকাশ : 2026-04-04 12:42:40১ | অনলাইন সংস্করণ
নিউজ ডেস্ক
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি শুধু অর্থনৈতিক উন্নয়নের চালিকাশক্তি নয়, জাতীয় নিরাপত্তা, টেকসই উন্নয়ন এবং মানবকল্যাণের অন্যতম ভিত্তি বলে মন্তব্য করেছেন বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম।
শনিবার (৪ এপ্রিল) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে ন্যাশনাল সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি কমপ্লেক্সে দুই দিনব্যাপী ষষ্ঠ ইয়াং সায়েন্টিস্ট কংগ্রেস শুরু হয়।অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম এ কথা বলেন।
এতে দেশের তরুণ বিজ্ঞানীরা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বিষয়ে গবেষণা, উদ্ভাবন ও সম্ভাবনা তুলে ধরবেন।বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।মন্ত্রী বলেন, তরুণ বিজ্ঞানীদের অংশগ্রহণে আয়োজিত ‘ষষ্ঠ ইয়াং সায়েন্টিস্ট কংগ্রেস’ দেশের বৈজ্ঞানিক অগ্রযাত্রাকে আরও ত্বরান্বিত করবে। বর্তমান বিশ্বে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি শুধু অর্থনৈতিক উন্নয়নের চালিকাশক্তি নয়, বরং জাতীয় নিরাপত্তা, টেকসই উন্নয়ন এবং মানবকল্যাণের অন্যতম ভিত্তি।
মন্ত্রী আরও বলেন, সরকার একটি জ্ঞানভিত্তিক ও উদ্ভাবননির্ভর বাংলাদেশ গড়ে তুলতে কাজ করছে।এ লক্ষ্যে স্টেম শিক্ষার প্রসার, গবেষণাকে বাজারে রূপান্তর, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাসহ আধুনিক প্রযুক্তিতে বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং স্টার্টআপ ইকোসিস্টেম শক্তিশালী করার ওপর গুরুত্বারোপ করা হচ্ছে।
মন্ত্রী তরুণ বিজ্ঞানীদের উদ্দেশ্যে বলেন, আপনারাই ভবিষ্যতের নেতৃত্ব দেবেন। গবেষণা, উদ্ভাবন ও সৃজনশীলতার মাধ্যমে দেশের উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে হবে। বিদেশে উচ্চশিক্ষা গ্রহণের পর অর্জিত জ্ঞান ও অভিজ্ঞতা দেশের কাজে লাগানোর জন্যও তিনি আহ্বান জানান।মন্ত্রী আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, সরকার বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি খাতের উন্নয়নে সর্বাত্মক সহযোগিতা অব্যাহত রাখবে।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের সচিব মোঃ আনোয়ার হোসেন বলেন, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় দেশে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাকে অগ্রাধিকার দিয়ে একটি জাতীয় এআই ইনস্টিটিউট প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নিয়েছে। ডেটা নিরাপত্তা, ব্যবস্থাপনা এবং কৃষি, শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও শিল্পখাতে এর কার্যকর ব্যবহার নিশ্চিত করতে সমন্বিত নীতিমালা ও গবেষণার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। একইসঙ্গে স্টেম শিক্ষা, ন্যানো ও বায়োটেকনোলজি এবং সেমিকন্ডাক্টরখাতে উন্নয়নেও কাজ চলছে। ‘ইনোভেশন টু মার্কেট’ উদ্যোগের মাধ্যমে উদ্ভাবনকে বাজারের সঙ্গে সংযুক্ত করতে এবং একটি শক্তিশালী ইকোসিস্টেম গড়ে তুলতে পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
শিগগিরই জাতীয় ইনোভেশন ফেয়ার আয়োজনের পরিকল্পনা রয়েছে।বিশেষ অতিথির বক্তব্যে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) চেয়ারম্যান প্রফেসর ড. মামুন আহমেদ বলেন, আজ আমরা চতুর্থ শিল্পবিপ্লবের যুগে অবস্থান করছি, যেখানে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা আমাদের জীবন ও কর্মক্ষেত্রকে পরিবর্তন করছে। বাংলাদেশের তরুণ বিজ্ঞানীরাই এই পরিবর্তনের মূল চালিকাশক্তি।
তিনি আরও বলেন, আমাদের উচিত প্রযুক্তি ব্যবহার করে দেশের বাস্তব সমস্যা, স্বাস্থ্য, কৃষি ও উদ্ভাবন,সমাধান করা এবং ডেটা নিরাপত্তা ও নৈতিকতা নিশ্চিত করা।কংগ্রেসে বিভিন্ন সেশন, গবেষণা উপস্থাপনা, প্যানেল আলোচনা এবং প্রযুক্তি প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত হবে। দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়, গবেষণা প্রতিষ্ঠান এবং প্রযুক্তি সংশ্লিষ্ট সংস্থার প্রতিনিধিরা এতে অংশ নিয়েছেন।
আয়োজকরা জানান, এ ধরনের উদ্যোগ তরুণ বিজ্ঞানীদের মধ্যে গবেষণার আগ্রহ বৃদ্ধি এবং আন্তর্জাতিক মানের উদ্ভাবন সৃষ্টিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।ষষ্ঠ ইয়াং সায়েন্টিস্ট কংগ্রেসের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ একাডেমি অব সায়েন্সেসের ভাইস প্রেসিডেন্ট প্রফেসর ড. জেড এন তাহমিদা বেগম।
অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন কংগ্রেসের চেয়ারপারসন মেজর জেনারেল (অব.) প্রফেসর ড. এ এস এম মতিউর রহমান। বাংলাদেশ একাডেমি অব সায়েন্সেসের সেক্রেটারি প্রফেসর ড. ইয়ারুল কবির অনুষ্ঠানের সূচনা বক্তব্য দেন।
‘তরুণ বিজ্ঞানীরা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার জন্য’ প্রতিপাদ্য নিয়ে ৪-৫ এপ্রিলে অনুষ্ঠিত এ কংগ্রেসের আয়োজন করেছে বাংলাদেশ একাডেমি অব সায়েন্সেস। এ ছাড়াও অনুষ্ঠানে দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-গবেষক, তরুণ বিজ্ঞানী, শিক্ষার্থী এবং সংশ্লিষ্ট ক্ষেত্রের বিশেষজ্ঞগণ উপস্থিত ছিলেন।