লোডশেডিংয়ে অতিষ্ঠ মাদারীপুরবাসী, জনজীবনে চরম ভোগান্তি

প্রকাশ : 2026-04-25 11:44:38১ |  অনলাইন সংস্করণ

  নিউজ ডেস্ক   

লোডশেডিংয়ে অতিষ্ঠ মাদারীপুরবাসী, জনজীবনে চরম ভোগান্তি

মাদারীপুরে লোডশেডিংয়ে অতিষ্ঠ জেলাবাসী। জনজীবনে চরম ভোগান্তি। চাহিদার তুলনায় সরবরাহ কম থাকায় ঘন ঘন লোডশেডিংয়ে অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছেন মাদারীপুরবাসী। দিন-রাত মিলিয়ে ১০ থেকে ১২ ঘণ্টা বিদ্যুৎ না থাকায় চরম ভোগান্তিতে পড়ছেন সাধারণ মানুষ।

মাদারীপুরের শহর থেকে গ্রাম; সবখানেই হরহামেশা বিদ্যুৎ যাওয়া-আসা করছে। সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়েছেন পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির গ্রাহকরা। প্রচণ্ড গরমে দুর্বিষহ পরিস্থিতি তৈরি হলেও কোনো সমাধান না থাকায় ক্ষুব্ধ গ্রাহকরা।সাধারণ মানুষ বলছেন, দিনে-রাতে যখন তখন বিদ্যুৎ চলে যাচ্ছে। তীব্র গরমে বিদ্যুৎ না থাকায় ফ্যান ছাড়া যাচ্ছে না। এতে ছোট বাচ্চা ও বয়স্কদের অনেক কষ্ট হচ্ছে।

পর্যাপ্ত বিদ্যুৎ না থাকায় কারখানার উৎপাদন নেমে এসেছে অর্ধেকে। বন্ধ হয়ে গেছে প্রেসের কাজ, চলছে না ফ্যান। ফলে অলস সময় কাটাচ্ছেন শ্রমিক-কর্মচারীরা। এতে আর্থিকভাবে ক্ষতির মুখে পড়ছেন ব্যবসায়ীরা। মৈত্রি মুদ্রণ প্রেসের স্বত্বাধিকারী জাহাঙ্গীর আলম বলেন, পর্যাপ্ত বিদ্যুৎ না পাওয়ার কারণে ছাপাখানায় উৎপাদন কমে গেছে। ব্যবসার ক্ষতি হচ্ছে। দিনে ও রাতে সব সময়ই লোডশেডিং হচ্ছে।

একই সঙ্গে সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের স্বাভাবিক কার্যক্রমও ব্যাহত হচ্ছে। ব্যবসায়ী জহিরুল ইসলাম শিকদার বলেন, গরমে দোকানে কেনাবেচা করা যাচ্ছে না। ক্রেতার সংখ্যাও কমে গেছে। আমরা লোকসানে পড়ে গেছি। 

মাদারীপুর বিদ্যুৎ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, ওয়েস্ট জোন পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেডের (ওজোপাডিকো) ৩৩ হাজার গ্রাহকের জন্য ১৬ মেগাওয়াট বিদ্যুতের চাহিদা থাকলেও সরবরাহ পাওয়া যাচ্ছে ১২ মেগাওয়াট। অন্যদিকে পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির প্রায় ৪ লাখ গ্রাহকের জন্য ৯৮ মেগাওয়াট চাহিদার বিপরীতে সরবরাহ মিলছে ৫২ মেগাওয়াট। ৮০টি সাবস্টেশনের মাধ্যমে গুরুত্বপূর্ণ এলাকা বিবেচনায় নিয়ে লোডশেডিং ভাগ করে দিচ্ছে কর্তৃপক্ষ।

মাদারীপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার (কারিগরি) অসিত সাহা জানান, এলাকা অনুযায়ী লোডশেডিং বাড়ে বা কমে। তবে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে সময় লাগবে। চাহিদার তুলনায় সরবরাহ কম থাকায় এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।

ওয়েস্ট জোন পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেডের (ওজোপাডিকো) মাদারীপুরের নির্বাহী প্রকৌশলী মিজানুর রহমান বলেন, চাহিদার চার ভাগের তিন ভাগ বিদ্যুৎ পাওয়া যাচ্ছে। গরম বেশি হওয়ায় বিদ্যুতের ব্যবহারও বেড়েছে। তাই বিভিন্ন এলাকা ভাগ করে কিছু সময়ের জন্য লোডশেডিং দেয়া হচ্ছে।