শিবচরে সুদের টাকা দিতে না পারায় হত্যার অভিযোগ, বিচারের দাবিতে স্বজনদের মানববন্ধন

প্রকাশ : 2026-02-27 19:06:26১ |  অনলাইন সংস্করণ

  নিউজ ডেস্ক   

শিবচরে সুদের টাকা দিতে না পারায় হত্যার অভিযোগ, বিচারের দাবিতে স্বজনদের মানববন্ধন

মাদারীপুর জেলার শিবচরে সোহেল বেপারী নামে এক ব্যক্তির ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। তবে সোহেল বেপারীকে(৩৮) হত্যা করে বাড়ির পাশের একটি বরই গাছে লাশ ঝুলিয়ে রাখার অভিযোগ তার পরিবারের। এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের বিচার দাবীতে মানববন্ধন করেছে নিহতের স্বজনেরা। শুক্রবার(২৭ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে উপজেলার উমেদপুর ইউনিয়নের চান্দেরচর বাজারে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। মানববন্ধনে অভিযুক্তদের বিচারের দাবি জানান স্বজনেরা। এর আগে গত মঙ্গলবার(২৪ ফেব্রুয়ারি) সকালে উমেদপুর ইউনিয়নের আলেপুর এলাকায় বাড়ির পাশে একটি গাছে সোহেল বেপারীর ঝুলন্ত মরদেহ দেখতে পায় পরিবারের লোকজন। এর আগের দিন রাত ১০ টার দিকে বাড়ি থেকে বের হয়ে নিখোঁজ হন তিনি।

নিহতের স্বজনরা জানান,'স্থানীয় হাসান মাদবর নামের এক ব্যক্তির নিকট থেকে সুদে কিছু টাকা এনেছিলেন সোহেল বেপারী। ওই টাকা দিতে না পারায় কিছুদিন আগেও একবার হাসান মাদবর ও তার লোকজন সোহেল বেপারীকে মারধর করেন। এরপর গত মঙ্গলবার রাত ১০ টার দিকে একটি ফোনকল আসার পর ঘর থেকে বের হয়ে যায় সোহেল। রাতে ঘরে না ফেরায় খোঁজাখুঁজি করেন পরিবারের লোকেরা। পরে সকালে বাড়ির পাশেই একটি রশির সাথে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পায় তাকে। খবর পেয়ে পুলিশ এসে লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মাদারীপুর মর্গে প্রেরণ করেন।

নিহতের বড় মেয়ে সুমাইয়া আক্তার বলেন,'হাসান মাদবররা এলাকায় সুদের ব্যবসায় করে। আমার বাবা কিছু টাকা ধার এনেছিল। এই টাকার জের ধরেই ওরা আমার বাবাকে মেরে গাছের সাথে ঝুলিয়ে আত্মহত্যা বলে চালিয়ে দিতে চাচ্ছে।'

তিনি আরও বলেন,'আমাদের বাড়ির কাছে একটি ফসলের ক্ষেতের বেশ কিছু স্থানে ধস্তাধস্তির চিহ্ন রয়েছে। আমার বাবার দুই হাতের মুঠোর মধ্যে মাটি লেগেছিল। আমার বাবা আত্মহত্যা করে নাই। ওরা মেরে গাছের সাথে ঝুলিয়ে রাখে। হাসান মাদবর ও তার লোকজন এখনও হুমকি দেয়।'

মানববন্ধনে পরিবারের লোকজন ছাড়াও স্থানীয়রা অংশ নেন। এসময় দোষীদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমুলক শাস্তির দাবি জানান তারা।

এ বিষয়ে জানতে শিবচর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা(ওসি) শফিকুল ইসলামের ব্যবহৃত ফোনে একাধিকবার চেষ্টা করেও বন্ধ পাওয়া গেছে। কোন বক্তব্য নেয়া সম্ভব হয়নি।