ইরান-যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধবিরতি আরও ৬০ দিন বাড়ছে

প্রকাশ : 2026-05-24 11:54:14১ |  অনলাইন সংস্করণ

  নিউজ ডেস্ক   

ইরান-যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধবিরতি আরও ৬০ দিন বাড়ছে

পশ্চিম এশিয়ার যে যুদ্ধ বিশ্ব অর্থনীতি ও তেলের বাজারকে জোর ধাক্কা দিয়েছে তা আরও ৬০ দিন স্থগিত রাখতে রাজি হওয়ার কাছাকাছি পৌঁছেছে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র।মধ্যস্থতাকারীদের বরাত দিয়ে এ খবর দিয়েছে ফাইন্যান্সিয়াল টাইমস।

২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানের ওপর যে যুদ্ধ চাপিয়ে দিয়েছিল, ৮ এপ্রিল এক নড়বড়ে যুদ্ধবিরতির মধ্য দিয়ে তা থামে। এরপর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প একাধিকবার ফের যুদ্ধ শুরুর হুমকি দিলেও পাকিস্তান এবং পশ্চিম এশিয়ার আরও কয়েকটি দেশ দুই পক্ষের সঙ্গে লাগাতার আলোচনা চালিয়ে তেহরান-ওয়াশিংটন মতবিরোধ কমানোর চেষ্টা করে যাচ্ছে।

ট্রাম্প গত সপ্তাহেই বলেছিলেন, পশ্চিম এশিয়ার কয়েকটি দেশের অনুরোধে তিনি মঙ্গলবার ইরানে পরিকল্পিত হামলার পথ থেকে সরে এসেছেন।এরপর শনিবার ফাইন্যান্সিয়াল টাইমস যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়ার সম্ভাবনার কথা জানাল।

মধ্যস্থতাকারীরা এখন অন্তর্বর্তীকালীন একটি চুক্তি নিয়ে কাজ করছেন যা তেহরানের পারমাণবিক কর্মসূচি ও আঞ্চলিক নিরাপত্তা নিয়ে আরও বিস্তৃত আলোচনার দ্বার খুলে দিতে পারে, বলছে যুক্তরাজ্যভিত্তিক সংবাদমাধ্যমটি।

অন্তর্বর্তী চুক্তিতে যেসব শর্ত থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে, তার মধ্যে রয়েছে- পর্যায়ক্রমে হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়া, ধাপে ধাপে ইরানের ওপর থাকা নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার, ইরানি বন্দরগুলোর ওপর মার্কিন নিষেধাজ্ঞা শিথিল এবং ইরানের কাছে থাকা উচ্চ মাত্রার সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম নিয়ে সংলাপ।

ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘেয়ি শনিবার বলেছেন, যুদ্ধের আনুষ্ঠানিক সমাপ্তি টানার প্রথম ধাপ হিসেবে তেহরান একটি ‘সমঝোতা স্মারক’ চূড়ান্ত করছে, যা পরের ৩০ থেকে ৬০ দিন পর্যন্ত বিস্তৃত আলোচনার সুযোগ করে দেবে।

তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে সবচেয়ে বেশি দূরত্ব রয়েছে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে। ট্রাম্প চাইছেন, ইরান তার উচ্চ মাত্রার সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম যুক্তরাষ্ট্রের হাতে তুলে দিক এবং নাতাঞ্জ, ফোরদো ও ইস্পাহানে শিয়া সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশটির যে গুরুত্বপূর্ণ তিনটি পারমাণবিক স্থাপনা রয়েছে তা ভেঙে ফেলুক।

অন্যদিকে ইরানের নেতারা বলছেন, শান্তিপূর্ণ কাজে ব্যবহারের জন্য ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ করার সার্বভৌম অধিকার তাদের রয়েছে।দেশটির পার্লামেন্টের স্পিকার বাকের কলিবফ বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রকে বিশ্বাস করা যায় না এবং তারা আলোচনায়ও আন্তরিক নয়। এরপরও তেহরান কূটনৈতিক আলোচনা ও যোগাযোগ চালিয়ে যেতে আগ্রহী।

মধ্যস্থতাকারীদের আশা, যুদ্ধবিরতির মেয়াদ ৬০ দিন বাড়ানো হলে তা পরিস্থিতি স্থিতিশীল করে বিস্তৃত পর্যায়ে ‍কূটনীতির সুযোগ করে দেবে।আলোচনা সম্বন্ধে অবগত এক কূটনীতিক ফাইন্যান্সিয়াল টাইমসকে বলেছেন, “চুক্তি ঠিকঠাক দিকেই এগুচ্ছে বলে মনে হচ্ছে। ইরান তাদের পারমাণবিক শক্তি নিয়ে আরও ছাড় দিতে প্রস্তুত রয়েছে, কিন্তু যুদ্ধ চলাকালে তারা তা করবে না। চুক্তি ওই দূরত্ব কমাতে সহায়তা করবে।”

পাকিস্তান আর কাতারের মধ্যস্থতাকারীরা তেহরানে ইরানি কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করার পর থমকে থাকা আলোচনা গতি পায়। আলোচনায় ‘উৎসাহব্যাঞ্জক অগ্রগতি’ হয়েছে বলে পরে জানায় ইসলামাবাদ।সাম্প্রতিক দিনগুলোতে সৌদি আরব, কাতার, সংযুক্ত আরব আমিরাতসহ পশ্চিম এশিয়ার দেশগুলো ওয়াশিংটন-তেহরান দূরত্ব কমাতে তৎপর হয়ে ওঠে।

আলোচনা ভেস্তে গেলে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ফের ইরানের ওপর হামলা চালানো শুরু করতে পারে, যার পাল্টায় তেহরানও উপসাগরীয় দেশগুলোর জ্বালানি স্থাপনায় ক্ষেপণাস্ত্র, ড্রোন ছুড়তে পারে এবং হরমুজ প্রণালিতে বিধিনিষেধ অনেকদিন অব্যাহত থাকতে পারে—এসব আশঙ্কাই তাদের তৎপর করেছে বলে অনুমান বিশ্লেষকদের।

ইরানের কর্মকর্তারা বলছেন, মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে আলোচনা চললেও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ সব বিষয় নিয়েই তাদের মতবিরোধ এখনও প্রকট।ওয়াশিংটনের দিক থেকে ‘পরস্পরবিরোধী বিবৃতি’ আসছে জানালেও বাঘেয়ি বলেছেন, পরস্পরের জন্য সন্তোষজনক একটি সমাধানের পথে দুই পক্ষের দৃষ্টিভঙ্গি ‘কাছাকাছি আসছে’।