ঈদুল আযহা সামনে রেখে ব্যস্ত নন্দীগ্রামের কামার শিল্পীরা
নন্দীগ্রাম (বগুড়া) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ২৫ মে ২০২৬, ১৬:৪৮ | আপডেট : ২৫ মে ২০২৬, ২৩:০০
পবিত্র ঈদুল আযহাকে ঘিরে টুং টাং শব্দে মুখরিত হয়ে উঠেছে বগুড়ার নন্দীগ্রাম উপজেলার বিভিন্ন গ্রামের কামার পল্লীগুলো। ঈদের দিন যতই ঘনিয়ে আসছে, কামারপাড়া ততই ব্যস্ততা বেড়েছে। দিনরাত চলছে তাঁদের কর্মযজ্ঞ। সারা বছর তেমন কাজ না থাকলেও কোরবানির ঈদকে কেন্দ্র করে কয়েকগুণ কর্মব্যস্ততা বেড়ে যায় তাঁদের।
লোহা হাতুড়ির টুং টাং শব্দে দিনরাত জেগে কাজ করে যাচ্ছেন কামার শিল্পীরা। কামার শিল্পীদের হাতের সাহায্য নিয়ে কৃত্রিম বাতাসের তালে তালে তাঁরা জ্বালাচ্ছেন কয়লা, পোড়াচ্ছেন লোহা। সেই লোহাকে হাতুড়ি পেটা করে আপন মনে তৈরি করছেন নানা প্রকৃতির দা, বটি, ছুরি, চাকু ও চাপাতি। জানা যায়, পবিত্র ঈদুল আযহায় গরু, মহিষ, ছাগল ও ভেড়া কোরবানির পশু হিসেবে জবাই করা হয়। দিনব্যাপী চলে কোরবানির পশু জবাই ও মাংস কাটার কাজ। আর মাংস কাটতে দা, বটি, ছুরি, চাকু ও চাপাতি ইত্যাদি ধাতব হাতিয়ারের প্রয়োজন হয়। এসব চাহিদা মিটানোর জন্য প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি তৈরি করছেন নন্দীগ্রামের কামার শিল্পীরা। ভোর হতে শুরু করে গভীর রাত পর্যন্ত কামার পল্লীগুলোতে ব্যস্ততার চিত্র দেখা যায়। ঈদকে সামনে রেখে উপজেলার বিভিন্নস্থান থেকে লোকজন এসে কামার শিল্পীদের কাছ দা, বটি, ছুরি, চাকু ও চাপাতিসহ অন্যান্য জিনিস ক্রয় করছেন। আবার অনেকে ঘরে থাকা পুরোনো দা, বটি, ছুরি, চাকু ও চাপাতি ধার দিচ্ছেন। সারা বছর তৈরিকৃত এসব পণ্য যত বিক্রি হয়, তার চেয়ে বেশি বিক্রি হয় ঈদুল আযহা উপলক্ষ্যে।
নন্দীগ্রাম হাটখোলা বাজারের নিখিল চন্দ্র কর্মকার বলেন, পবিত্র ঈদুল আযহা উপলক্ষ্যে দা, বটি, ছুরি, চাকু ও চাপাতি বানাতে ব্যস্ত আছি। প্রতি বছর কোরবানির আগে আমাদের ব্যস্ততা বেড়ে যায়। লোহার দাম বেড়ে যাওয়ায় গত বছরের চেয়ে এবার লোহার তৈরি জিনিসের দাম বেড়েছে। ওমরপুর হাটে দা কিনতে আসা আব্দুস সাত্তার জানান, ঈদের আর মাত্র কয়েকদিন বাকি রয়েছে। তাই ৬০০ টাকা দিয়ে একটি দা কিনে নিয়ে যাচ্ছি। গত বছর যে ছুরি ৫০০ টাকায় কিনেছি এ বছর সেই ছুরির দাম ৭০০ টাকা। দিনদিন প্রতিটি জিনিসপত্রের দাম বেড়ে যাচ্ছে।
- সর্বশেষ খবর
- সর্বাধিক পঠিত