ঈদে ব্যাংকে নতুন নোটের সংকট, চড়া দামে মিলছে ফুটপাতে
অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: ১৩ মার্চ ২০২৬, ১১:৪৫ | আপডেট : ১৪ মার্চ ২০২৬, ০১:৫৬
ঈদ এলেই নতুন নোটের চাহিদা বেড়ে যায়। নতুন নোট পণ্য হিসেবে বাজারে বিক্রি বেআইনি হলেও বিক্রি হতে দেখা যায়। রাজধানীর মতিঝিলে বাংলাদেশ ব্যাংকের পাশে ও গুলিস্তান স্পোর্টস মার্কেটের সামনের ফুটপাতে বিক্রি হচ্ছে নতুন নোট। এই দুই জায়গায় ৮০টির বেশি নোট ও ছেঁড়া টাকার বেচাকেনার অস্থায়ী দোকান আছে। এ বছর দুই টাকা থেকে এক হাজার টাকা পর্যন্ত নতুন নোটের বান্ডিল কিনতে ক্রেতাকে বাড়তি দিতে হচ্ছে ১৫০ টাকা থেকে ৪৫০ টাকা।
তবে এবারের পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে সাধারণ নাগরিকদের জন্য টাকার নতুন নোট ছাড়েনি বাংলাদেশ ব্যাংক। সম্প্রতি বাংলাদেশ ব্যাংকের অভ্যন্তরীণ আদেশে বলা হয়, বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা নির্দিষ্ট পরিমাণ নতুন টাকার নোট সংগ্রহ করতে পারবেন।
নতুন নোট কিনতে আসা সাধারণ ক্রেতারাও বলছেন, ব্যাংকে গিয়েও নতুন নোট পাননি তাঁরা। নতুন নোটের ব্যবসায়ীরা জানান, চার-পাঁচ দিন ধরে নতুন নোটের বাজারে ক্রেতাদের চাহিদা বেড়েছে। এবার আগে থেকে ছুটি শুরু হয়েছে বলে ক্রেতাদের ভিড় তুলনামূলক বেশি।
নতুন নোটের দরদাম
গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে মতিঝিল ও গুলিস্তান ঘুরে দেখা গেছে, নতুন নোটের ব্যবসায়ীরা যে যেভাবে পারছেন সেভাবে পসরা সাজিয়ে বসেছেন। ক্রেতাদের ভিড়ও চোখে পড়ার মতো। আর দামও গত বছরের তুলনায় কিছুটা কম। তবে নতুন নোটের মাধ্যমে বেশি চাহিদা ৫, ১০ ও ২০ টাকার নোটের বান্ডিলের। পাশাপাশি বাজারে দেখা মিলছে ১০, ২০, ৫০ ও ১০০ টাকার নতুন নকশার নোট। অধিকাংশ ক্রেতা নতুন নকশার নোটের জন্য কিছুটা বাড়তি দাম হাঁকাচ্ছেন। ক্রেতাদেরও নতুন নকশার নোটের ওপর চাহিদা বেশি।
এই দুই নতুন নোটের বাজারে দুই ধরনের দাম চাওয়া হচ্ছে। এর মধ্যে মতিঝিলে বাংলাদেশ ব্যাংকের সামনে দাম কিছুটা কম। এই দুই বাজারে পুরোনো নকশার ২ টাকার নতুন এক বান্ডিল বিক্রি হচ্ছে ১০০ থেকে ১৫০ টাকা বাড়তি দামে। ১০ টাকার পুরোনো নকশার নোট বিক্রি হচ্ছে ২৫০ থেকে ৩০০ টাকা। আর নতুন নকশার নোটে বাড়তি গুনতে হচ্ছে ৩০০ থেকে ৩৫০ টাকা। এ ছাড়া ২০ টাকার নতুন নকশার নোট ৩০০ থেকে ৩৫০ টাকা ও পুরোনো নকশার নোটের বান্ডিল ২৫০ থেকে ৩০০ টাকা বাড়তি দামে বিক্রি হচ্ছে।
গতকাল বাংলাদেশ ব্যাংকের সামনে বটতলায় কথা হয় বেসরকারি চাকরিজীবী আহমেদ সজীবের সঙ্গে। ২০ টাকার এক বান্ডিল নতুন নোট কিনতে তাঁকে বাড়তি গুনতে হয়েছে ৩৩০ টাকা। আহমেদ সজীব বলেন, ‘পরিবারের সঙ্গে ঈদ করতে পাবনার সাঁথিয়ায় যাব। বাড়ির ছোট ভাইসহ শিশুরা আছে। মূলত তাদের জন্যই এই নোট কেনা। সকালে ব্যাংকে খোঁজ নিয়ে না পেয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের গেটের সামনে আসি।’
আর ৫০ টাকার পুরোনো নকশার নোট বিক্রি হচ্ছে বান্ডিলপ্রতি ২০০ টাকার। নতুন নকশার নোট বিক্রি হচ্ছে ২৫০ থেকে ৩০০ টাকার মধ্যে। এ ছাড়া ১০০ টাকার নতুন ও পুরোনো নকশার নতুন নোটের বান্ডিল ৩০০ থেকে ৪০০ বাড়তি দামে বিক্রি হচ্ছে। এ ছাড়া ২০০, ৫০০ ও ১ হাজার টাকা নোটের বান্ডিলপ্রতি ২০০ থেকে ৩০০ টাকা বাড়তি দামে বিক্রি হচ্ছে। তবে কোথাও বিক্রেতাভেদে দাম কিছুটা কমবেশি রয়েছে। অনেক ক্রেতাকে আবার দরদাম করে বান্ডিলপ্রতি ২০ থেকে ৫০ টাকা পর্যন্ত কমাতে দেখা গেছে।
গুলিস্তানে প্রথম নতুন নোট কিনতে আসেন বেসরকারি চাকরিজীবী দুই বন্ধু সাকিব শাহরিয়ার ও আবু তোরাব। তাঁরা প্রথম আলোকে বলেন, ‘গ্রামে যাব তাই ১০ ও ২০ টাকার নতুন নোটের বান্ডিল কিনতে এসেছি। বান্ডিলপ্রতি ৩৫০ থেকে ৪০০ টাকা পর্যন্ত চাওয়া হচ্ছে।’
গুলিস্তানে নতুন নোট বিক্রেতা সাইফুল্লাহ রুবেল বলেন, এখন দাম কিছুটা কম আছে। তবে এবার বাজারে নতুন নোট কম এসেছে। তাই কয়েক দিন পর চাহিদা আরও বাড়লে দামও বেড়ে যেতে পারে।
নতুন নোট পণ্য হিসেবে বিক্রি বেআইনি
গতকাল বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান বলেন, বাজারে নতুন নোট পণ্য হিসেবে বিক্রি করা সম্পূর্ণ বেআইনি। বাংলাদেশ ব্যাংক ও বাণিজ্যিক ব্যাংকের কোনো কর্মকর্তা যদি এ ধরনের কার্যক্রমে জড়িত থাকেন, তাঁদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তিনি আরও বলেন, ‘প্রতিটি উৎসবে নতুন নোটের চাহিদা থাকে। তবে নতুন নোটের আকাঙ্ক্ষা থেকে বেরিয়ে আসতে হবে। কারণ আমরা ক্যাশলেস বাংলাদেশের দিকে যাচ্ছি। নতুন নোট কোনো পণ্য নয়, যে তা বিক্রি হবে। নতুন পণ্য হিসেবে বিক্রি করা সম্পূর্ণ বেআইনি।’ তিনি আরও বলেন, কেউ যদি এ ধরনের কাজে জড়িত থাকেন তাহলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী দেখবে। আর বাংলাদেশ ব্যাংক ও বাণিজ্যিক ব্যাংক থেকে যদি নতুন নোট বিক্রির জন্য সরবরাহ করা হয় তাহলে জড়িতদের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
- সর্বশেষ খবর
- সর্বাধিক পঠিত