ভাল দাম ও বাম্পার ফলনে চাষিরা

খুশি কলা চাষে কাউনিয়ার কৃষকের ভাগ্য বদলের হাতছানি

  সারওয়ার আলম মুকুল,কাউনিয়া (রংপুর) প্রতিনিধি

প্রকাশ: ১৪ জুলাই ২০২৫, ১৭:৫৭ |  আপডেট  : ২১ মার্চ ২০২৬, ২৩:২১

 ‘কলা গেড়ে না কেটো পাত তাতেই কাপড় তাতেই ভাত’ চলতি মৌসুমে কলা চাষেিদর ভাগ্যে এ প্রবাদটি কপালে লেগেছে রংপুরের কাউনিয়া উপজেলার শতাধিক কলা চাষীর জীবনে। তারা বলছেন কথিত ঐ প্রবাদটি এবারে সঠিক প্রমানিত হয়েছে। কলা চাষ করে লাখ লাখ টাকা লাভের স্বপ্ন দেখছেন কলা চাষীরা। কলা চাষ করে শুধু ভাত কাপড়ই নয় জীবনের অনেক সাধ আহলাদও মিঠাচ্ছেন ওঁরা। পরপর দুই বছর আলু ও ধানের দাম নাপেয়ে যখন কৃষক প্রায় হতাশায় পরে যাচ্ছিল ঠিক তখনই আশার আলো দেখাল কলা চায়। 

সরেজমিনে খোপাতি ও হলদীবাড়ি গ্রামের কলা ক্ষেতে গিয়ে কথা হয় চাষী মিজানুর ও মোকফার হোসেন এর সাথে। তারা জানান তাদের জমিতে ধান আলু ছারা তেমন কোন ফসল ফলতো না। পরপর ২বছর আলু ও ধানের দাম না পেয়ে তারা বেশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। জমিতে অন্য কোন ফসলই যখন ভাল হচ্ছিল না তখন পীরগাছার এক কলা চাষী বন্ধুর পরামর্শে ২ টাকা দরে ১২শ পিচ কলা গাছের চারা ক্রয় করে এনে ১২০ শতক করে জমিতে কলা রোপন করেন তারা। ওই বন্ধুর সাথে ও উপজেলা কৃষি বিভাগের পরামর্শ নিয়ে কলা চাষ করে তারা ব্যাপক সফলতা পেয়েছেন। মিজানুর জানান, তার প্রতি ১০০ গাছে চারা, সেচ, কিটনাশক, বাঁশ, লেবার মিলে খরচ হয়েছে ৭ থেকে ১০ হাজার, বিক্রি হবে ২৫ থেকে ৩০ হাজার। এবছর তারা দ্বিগুনের চেয়ে বেশী দামে বিক্রির আশা তাদের। সরকার যদি কলা সংরক্ষনাগার তৈরী করতো তবে চাষিরা আরও বেশী দাম পেত। তারা সকলেই এখন সফল কলা চাষি হিসেবে পরিচিতি পেয়েছে। খোপাতী গ্রামের কলা চাষী আফজাল জানান হাটে কলা নেয়া লাগে না, বাড়ীতে বসে কলা বেচা হয়। আমাদের উপজেলায় কলার দাম না থাকলেও ঢাকা কুমিল্লাসহ অন্য জেলায় কলার চাহিদা অনেক বেশী, বিশেষ করে ঢাকার পাটি আসলে তো কথাই নাই। হলদিবাড়ী গ্রামের মমিনুল জানান ৩৪ শতক জমিতে কলা চাষ করতে খরচ হয়েছে ৩৫ হাজার থেকে ৪০ হাজার টাকা অন্য বছর সেই জমির কলা বিক্রি হতো ৮০ থেকে ৮৫ হাজার টাকা। এবার সেই কলা বেচাঁ হবে ১ লাখ ২০ হাজার টাকা থেকে ১ লাখ ৩০ হাজার টাকা পর্যন্ত। কলার স্থানীয় পাইকার রাজ্জাক, মনোয়ার, জহুরুল জানান কাউনিয়ায় উৎপাদিত কলার মান ভাল হওয়ায় তারা ঢাকা, চট্রগ্রাম, নোয়াখালী, কুমিল্লা, ফেনীসহ বিভিন্ন জেলার বাজারে ভাল দামে বিক্রি করতে পাচ্ছেন। হলদীবাড়ি ও খোপাতি গ্রাম এখন কলা গ্রাম নামে ব্যাপক পরিচিতি পেয়েছে। ঢাকার কলার পাইকার বজলু হোসেন বলেন কাউনিয়ার কলার মান ভাল, তাই চাষীরা ভাল দাম পাচ্ছে। তিনি জানান এ অঞ্চলের মানুষের আতিথিয়েতা আমায় মুগ্ধ করেছে। কলার সুদিন ফিরে আসার কারন অনুসন্ধানে দেখা গেছে রংপুর অঞ্চলে কলার চাষ ভালো হওয়ায় অন্য জেলা থেকে প্রচুর চাহিদা নিয়ে কলা ক্রেতারা বাড়ী বাড়ী ঘুরছেন। 

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ তানিয়া আকতার জানান চলতি খরিপ-১ মৌসুমে উপজেলায় হিমসাগর ও সবরি কলা ৪০হেক্টর জমিতে চাষ হয়েছে। কাউনিয়ার কলা মানে ভালো হওয়ায় রাজধানীতে এখানকার কলার চাহিদা বেশী। কলা চাষীরা এবার ভাল পলন ও দামও ভাল পাবে আশা করছি।
 

  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত