মাদারীপুর জেলার ৫টি উপজেলায় চলছে নৌকা তৈরির হিড়িক

  এসআর শফিক স্বপন,মাদারীপুর

প্রকাশ: ৬ জুলাই ২০২৫, ১৫:০৬ |  আপডেট  : ২১ মার্চ ২০২৬, ২৩:২৪

মাদারীপুরে  বর্ষা মওসুম আসার সাথে সাথেই  জেলার ৫টি উপজেলায় চলছে নৌকা তৈরির হিড়িক। মাদারীপুরে ব্যস্ত সময় পার করছেন নৌকার কারিগররা। দিনরাত হাতুড়ি-বাটালের ঠুকঠুকানিতে মূখরিত মাদারীপুর সদর,রাজৈর,কালকিনি, ডাসার ও শিবচরের বিভিন্ন নৌকা তৈরির হাট-বাজারগুলো। এক সময় নৌকা ছিল  যোগাযোগের অন্যতম বাহন। বর্তমানে শুধু বর্ষাকালে নিম্নাঞ্চল ও বন্যাকবলিত এলাকায় মানুষের পারাপারে নৌকা ব্যবহার হয়।

জানা গেছে, বর্ষা মৌসুমে নিচু এলাকার বাসিন্দাদের  যোগাযোগের মাধ্যম হয়ে ওঠে নৌকা। চারদিকে বর্ষায় যখন রাস্তাঘাট তলিয়ে যায়, তখন  নৌকা, কলাগাছের  ভেলা হয়ে ওঠে পারাপারের ভরসা। এ কারণে  বিভিন্ন গ্রামে  নৌকা তৈরির কাজ শুরু হয়ে গেছে। বর্ষাকালে চরাঞ্চলের জনপদ পানিতে থৈ থৈ করে। ডুবে যায় রাস্তাঘাট, নদী-নালা, খাল-বিল। যাতায়াত করতে হয়  নৌকায়। বর্ষাকালে মৎস্যজীবীরা মাছ ধরার কাজে ব্যবহার করেন  ছোটবড় নৌকা। তাই বর্ষা মৌসুম আসলেই এ অঞ্চলে  বেড়ে যায়  নৌকার কদর। 

মাদারীপুর সদর উপজেলার  খোয়াজপুর  ইউনিয়নের ২নং ব্রীজ সাতসমাজ,  পৌর এলাকার পুরান বাজার কাঠপট্রি, কালকিনি উপজেলার বাশগাড়ি,খাসেরহাট, রাজৈর উপজেলার  টেকেরহাট, ডাসার উপজেলা নবগ্রাম, শিবচর উপজেলার  মাদবরের চর কাঠপট্টি এলাকায়  কারিগররা  নৌকা তৈরিতে এখন  বেশ ব্যস্ত। দিনরাত  নৌকা তৈরি করছেন তারা। কাঠ ব্যবসায়ী মোহাম্মদ আলী বলেন, ‘আমি বিক্রির উদ্দেশ্যে কমদামি খাট, চৌকি, দরজা, জানালা তৈরি করি আর বর্ষা এলে  নৌকা বানাই। দিনরাত হাতুড়ি-বাটালের ঠুকঠুকানিতে মুখর। একটি নৌকা বানাতে দুইজন মিস্ত্রী দুই দিন সময় লাগে। লোহা,পাতাম,কাঠের দাম  বেশি হওয়ায় আগের মতো তৈরী করা হয় না। প্রতিটি ১২ হাতের নৌকা বানাতে ৫হাজার  থেকে ৬ হাজার টাকা খরচ করে একটি নৌকা ৭ থেকে ৮ হাজার টাকায় বিক্রি করেন তারা।  খরচপাতি দিয়ে বিক্রি করে  যে টাকা পান তাই দিয়ে সংসার চালান। শরীয়তপুর,টেকেরহাট,শেখপুর, শিবচর সহ বিভিন্ন অঞ্চল থেকে  লোকজন এসে  নৌকা ক্রয় করায় নৌকা চাহিদা বেশি। নৌকা ক্রেতা তামিম মাতুব্বর  জানান, বন্যায় নিচু সড়ক ডুবে যায়। তাই পরিবারের সদস্যদের পারাপার করার জন্য ছোট নৌকা ৫ হাজার ৫০০ টাকা দিয়ে কিনেছেন।

নৌকার কারিগর কাঠমিস্ত্রি বাসুদেব জানান, কাঠের কাজ তাঁর  পেশা। বর্ষাকাল শুরুর ১-২ মাস আগে  থেকেই তিনি  নৌকা তৈরির কাজ শুরু করেন। বর্ষায়  নৌকা আর বছরের বাকি সময়টা  চেয়ার-টেবিল, দরজা-জানালা তৈরি করে চলে তার সংসার। গত কয়েক দিনে তিনি বেশ কয়েকটি নৌকা বিক্রি করেছেন। 

রহিম মাদবর, অনিল মালো, সাজেম মাতুব্বরসহ কয়েকজন নৌকার মিস্ত্রি জানান, এখন প্রায় প্রত্যেক এলাকার বড় রাস্তা পাকা করা হয়েছে। ফলে দূরের যাত্রার জন্য  কেউ বড়  নৌকা তৈরি করে না। বর্ষায় এ পাড়া  থেকে ওপাড়া যাতায়াতের জন্য ছোট ছোট  নৌকার প্রয়োজন হয়। তাই বড়  নৌকা তৈরি হয় না-  ছোট  নৌকার কদর বেশি।

নৌকা নির্মাণের লোহা,পাতাম কাঠের দাম বেশি হওয়ায় ঐতিহ্যবাহী এ বাহনকে ধরে রাখতে এবং নির্মাণ শ্রমিকদের টিকিয়ে রাখতে সবাইকে সহযোগিতায় এগিয়ে আসার আহবান ।
 

  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত