কাউনিয়ায় কাঁঠালের বাম্পার ফলন, দাম নিয়ে হাসি নেই চাষির মুখে

  সারওয়ার আলম মুকুল  

প্রকাশ: ৩১ মার্চ ২০২৬, ১৭:২৭ |  আপডেট  : ১ এপ্রিল ২০২৬, ২১:৫৭

দেশের জাতীয় ফল কাঁঠাল। গুনাগুনে ফলের রাজা কাঁঠাল গ্রামের সবার কাছে সমাদৃত। কাঁঠাল শুধু মৌসুমী ফলই নয়-সহায়ক খাদ্য ও অর্থকরী ফসল হিসেবে স্বকীয় গুণাগুনের কারণেই নিজের জায়গা করে নিয়েছে দীর্ঘদিন যাবত। চলতি মৌসুমে রংপুরের কাউনিয়ায় কাঁঠালের বাম্পার ফলন হলেও দাম নিয়ে চিন্তার ভাজ কৃষকরে কপালে।

সরেজমিনে দেখা গেছে প্রায় প্রতিটি বাড়িতে গাছে কাঁঠালের বাম্পার ফলন হয়েছে। প্রতিটি গাছে থোকায় থোকায় কাঁঠাল ধরেছে। চাষিরা জানান বিগত বছর গুলোতে কাঁঠালের দাম না পওয়ায় এবাও দাম নিয়ে শঙ্কায় তারা। হরিচরন লস্কার গ্রামের নুর আমিন জানান, কাঁঠাল চাষের প্রতিবন্ধকতা শিল্পায়ন ও ন্যায্য মূল্য না পাওয়া। এছাড়া কাঁঠাল গাছ কেটে শিল্পপ্রতিষ্ঠান, ফার্নিচার ও বাড়ি-ঘর নির্মাণ করা হলেও কৃষি বিভাগ বা বেসরবারী কোন ভাবে নতুন করে লাগানো হচ্ছে না কাঁঠাল গাছ। এসব কারণে কাঁঠাল চাষ কমছে। বনগ্রামের নার্সারি ব্যবসায়ী আঃ জলিল বলেন, কিছু দিন আগেও আশপাশের জেলায় আমরা কাঁঠালের চারা সরবরাহ করতাম। এখন কাঁঠালের চারার কোন চাহিদা নেই। ফলে চারা এখন কম উৎপাদন করি। ডাঃ খন্দকার মমিনুল ইসলাম জানান, শিল্পায়ন ও খাবারের ভিন্নতায় মানুষের মধ্যে কাঁঠালে আগ্রহ কমছে। আবার দেশীয় পরিবেশের ভারসাম্য হারানোয় কাঁঠালের ফলনও কমছে। তবে জাতীয় ফলের ঐতিহ্যকে ধরে রাখতে গবেষণা কার্যক্রম অব্যাহত রাখা প্রয়োজন। কাঁঠাল বিচিতে আমিষ, বিভিন্ন ধরনের ভিটামিন ও মিনারেলস আছে প্রচুর। আগাম জাতের কাঁঠাল পাকতে শুরু করেছে। পাকা কাঁঠালের মিষ্টি গন্ধে কীট পতঙ্গরা ভিড় করছে গাছে গাছে। আগের দিনে জাতীয় ফল কাঁঠালের মিষ্টি রসে চিড়া, মুড়ি খাওয়ার ধুম পড়ে যেত। উপজেলার হাট বাজার গুলোতে পাকা কাঁঠাল উঠতে শুরু করেছে। অধিকাংশ কাঁঠাল গাছ গুলো বাগান ভিত্তিক না হলেও আঙিনায়, রাস্তার দুইধারে, মাদ্রাসা, স্কুল, কলেজের চত্তরে কিছু গাছের দেখা মেলে। আর এসব গাছে ঝুলে থাকা কাঁঠলের দৃশ্য অনেকের নজর কাড়ে। চারা লাগানোর পর সাধারনত এর কোন যতœ নেয়া হয় না। শুধুমাত্র গুরু-ছাগলের আক্রমন ও ঝড়ে যাতে ভেঙ্গে না পড়ে তার জন্য বড়জোর একটা খুঁটি ও খাঁচা ব্যবহার করা হয়ে থাকে। কাঁঠালের চারা আপনা থেকেই বেড়ে উঠে। অর্থাৎ অনাদর আর অবহেলায় বন-বাদারে বেড়ে উঠে ফলের রাজা কাঁঠাল। একজন কৃষক আক্ষেপের সাথে বলেন, অন্যান্য ফল ও গাছ নিয়ে সরকারি-বেসরকারি পর্যায়ে যত তৎপরতা লক্ষ্য করা যায় কাঁঠাল নিয়ে তার সিকি ভাগও হয়না। এবার আবহাওয়া অনুকুলে থাকায় কাঁঠাল ভাল ধরেছে । তবে ফলন বেশি হলে দাম না পাওয়ার আশংকাও রয়েছে। শিক্ষক আঃ মাজেদ জানান, এলাকায় কোন কাঁঠাল প্রক্রিয়াজাত বাবস্থা না থাকায় কৃষকরা তাদের ন্যায্য দাম থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। অবিলম্বে অত্র এলাকায় একটি কাঁঠাল প্রক্রিয়াজাত ব্যবস্থ›া গড়ে তুললে মানুষ অর্থনৈতিকভাবে উপকৃত হবে। চাষিরাও কৃষি বিভাগ থেকে প্রয়োজনীয় পরামর্শ পান না। নিজেদের প্রচেষ্টায় উৎপাদন করে আসছেন তারা। কীটপতঙ্গ নিধনে কেমন ওষুধ প্রয়োগ করতে হবে, সে পরামর্শও মিলছে না। কৃষি অর্থনীতির চালিকাশক্তি কাঁঠাল, কৃষি বিভাগের উদাসিনতায় সেই ঐতিহ্য হারাতে বসেছে। কৃষি বিভাগ জানায় উপজেলায় ২২ হেক্টর জমিতে কাঁঠাল চাষ হয়েছে। উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ২২৬০ মেঃটন। 
 

  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত