নির্বাচনি ইশতেহার বাস্তবায়নে পাঁচ বছরের কর্মপরিকল্পনার রূপরেখা তুলে ধরলেন প্রধানমন্ত্রী

  অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ১ এপ্রিল ২০২৬, ১৬:৪২ |  আপডেট  : ১ এপ্রিল ২০২৬, ২২:৪৩

সরকারের ঘোষিত নির্বাচনি ইশতেহার বাস্তবায়নে পাঁচ বছরের কর্মপরিকল্পনার রূপরেখা তুলে ধরেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। একইসঙ্গে ইশতেহার বাস্তবায়নে ইতোমধ্যে অর্জিত উল্লেখযোগ্য অগ্রগতিও দেশবাসীর সামনে উপস্থাপন করেন তিনি।

বুধবার (১ এপ্রিল) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনের ষষ্ঠ দিনে সিলেট-২ আসনের সংসদ সদস্য মোছা. তাহসিনা রুশদীর এক লিখিত প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী এসব তথ্য জানান।

সংসদ নেতা তারেক রহমান বলেন, সরকারের নির্বাচনি ইশতেহারে ঘোষিত কার্যক্রমগুলো বাস্তবায়নের জন্য সব মন্ত্রণালয় ও বিভাগ আগামী ১৮০ দিন, আগামী অর্থবছর এবং আগামী ৫ বছরের কর্মপরিকল্পনা প্রণয়নের প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণ করছে।

ইতোমধ্যে কতিপয় গুরুত্বপূর্ণ কার্যক্রম বাস্তবায়নে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতিও অর্জিত হয়েছে। লিখিত জবাবে ইশতেহার বাস্তবায়নের খাতভিত্তিক চিত্র তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী-

প্রান্তিক ও নিম্ন আয়ের পরিবারকে সুরক্ষা দিতে প্রাথমিক পর্যায়ে ১৩টি জেলার ১৫টি ওয়ার্ডে ৩৭ হাজার ৮১৪টি নারীপ্রধান পরিবারকে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ প্রদান কার্যক্রম শুরু হয়েছে। কৃষকের সার্বিক সুরক্ষা প্রদানে সরকার কৃষক কার্ড প্রদানের উদ্যোগ নিয়েছে। প্রাথমিক পর্যায়ে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের মাধ্যমে ৮টি বিভাগের ১০টি জেলার ১১টি উপজেলার ১১টি ব্লকে এটি পাইলটিং করা হবে। এছাড়া, নির্বাচনী অঙ্গীকার বাস্তবায়নে সরকার ইতোমধ্যে শস্য, ফসল, পশুপালন ও মৎস্য খাতে ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষিঋণ মওকুফ করেছে।

সরকারের নির্বাচনি ইশতেহার বাস্তবায়নে প্রাথমিক পর্যায়ে পবিত্র ঈদুল ফিতরের পূর্বেই ৯ হাজার ১০২ জন উপকারভোগীর ব্যাংক অ্যাকাউন্টে সম্মানী পাঠানো হয়েছে। এর মধ্যে ৩ হাজার ২৯৫ জন ইমাম, ২ হাজার ৯৭৫ জন মুয়াজ্জিন, ২ হাজার ৬০৪ জন খাদেম এবং হিন্দু মন্দিরের ১১৪ জন পুরোহিত, ৮৩ জন সেবাইত এবং বৌদ্ধ বিহার/প্যাগোডার ১৫ জন অধ্যক্ষ ও ১৬ জন উপাধ্যক্ষ রয়েছেন।

খুলনা জেলায় পাইলটিং কার্যক্রমের আওতায় ২৫ লাখ ‘ই-হেলথ কার্ড’ প্রদানের জন্য একটি প্রকল্প অনুমোদনের প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। এছাড়া, চলতি অর্থবছরেই সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ২ লাখ শিশুর মাঝে বিনামূল্যে স্কুল ড্রেস বিতরণের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।

আগামী ৫ বছরে ২০ হাজার কিলোমিটার খাল খনন ও পুনঃখনন কর্মসূচি গত ১৬ মার্চ থেকে বাস্তবায়ন শুরু হয়েছে। গত জুন পর্যন্ত পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়, স্থানীয় সরকার বিভাগ ও কৃষি মন্ত্রণালয় ১ হাজার ২০৪ কিলোমিটার খাল খনন করেছে। এছাড়া, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় কাবিখা, কাবিটা ও টিআরের মাধ্যমে আরও ১ হাজার ৫০০ কিলোমিটার খাল পুনঃখনন বা সংস্কার করবে। পাশাপাশি, পাঁচ বছরে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ ও সবুজ কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যে ইতোমধ্যে দেড় কোটি চারা উৎপাদন করা হয়েছে, যা আসন্ন বর্ষা মৌসুমে রোপণ করা হবে।

কারিগরি ও ভাষা দক্ষতা উন্নয়নে আগামী ১৮০ দিনের মধ্যে কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ৯ হাজার শিক্ষককে ট্যাব প্রদান করা হবে এবং ৩ হাজার ৮৩২টি মাল্টিমিডিয়া ক্লাসরুম স্থাপন করা হবে। ১৭২ জন শিক্ষার্থীকে ইতালিয়ান ও জাপানি ভাষা শিক্ষা প্রদান করা হবে। ২০২৬ সালের জুনের মধ্যে ৪১৮টি কারিগরি ও মাদরাসা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ফ্রি ওয়াই-ফাই চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

সারাদেশে শহর ও গ্রামাঞ্চলে খেলার মাঠ নির্ধারণ ও অবকাঠামো উন্নয়নে কর্মকৌশল নির্ধারণে কেন্দ্রীয় পর্যায়ে কমিটি গঠন করা হয়েছে। এছাড়া, ইশতেহারকে প্রাধান্য দিয়ে জাতীয় ক্রীড়াবিদদের জন্য ‘ক্রীড়া ভাতা’ চালু করা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে ৫০০ জন ক্রীড়াবিদকে এই ভাতার আওতায় আনার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে প্রথম ধাপে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে সাফল্য অর্জনকারী ১২৯ জন ক্রীড়াবিদকে ভাতা প্রদান করা হয়েছে।

হাইটেক বা সফটওয়্যার পার্ক এবং আইসিটি সেন্টারসমূহ কার্যকরভাবে পরিচালনার জন্য এবং বাংলাদেশে পেপ্যালের কার্যক্রম শুরুতে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণের লক্ষ্যে একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে।

ল্যাংগুয়েজ স্টুডেন্ট ভিসায় বিদ্যমান জামানতবিহীন ঋণসীমা ৩ লাখ থেকে বাড়িয়ে ১০ লাখ টাকায় উন্নীত করা হয়েছে। জাপানগামী শিক্ষার্থীদের জন্য ভিসা প্রাপ্তির পূর্বেই ‘সার্টিফিকেট অব এলিজিবিলিটি’এর ভিত্তিতে এই ঋণ প্রদান সহজ করা হয়েছে।

  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত