জেলা প্রশাসকের নিকট লিখিত অভিযোগের পর তদন্ত কমিটি গঠন
আটোয়ারীতে নির্ধারিত সংখ্যার চেয়ে অতিরিক্ত গাছ কর্তন
পঞ্চগড় প্রতিনিধি\
প্রকাশ: ৪ মার্চ ২০২৬, ১৮:৫০ | আপডেট : ৫ মার্চ ২০২৬, ০৩:১৪
পঞ্চগড়ের আটোয়ারী উপজেলায় দরপত্রে নির্ধারিত সংখ্যার চেয়ে অতিরিক্ত গাছ কর্তনের অভিযোগে তদন্ত কমিটি করা হয়েছে। লিখিত অভিযোগ পাওয়ার পর উপজেলা নিবার্হী অফিসার ওই তদন্ত কমিটি গঠন করেছে বলে জানা গেছে। দরপত্র অনুযায়ী অতিরিক্ত গাছ কর্তনের অভিযোগ আটোয়ারী উপজেলার লক্ষীপুর ইসলামিয়া আলিম মাদ্রাসার বিরুদ্ধে। বিষয়টি সুষ্ঠু তদন্ত সাপেক্ষে করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবীতে পঞ্চগড় জেলা প্রশাসকের নিকট লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়েছে।
জানা যায়, সম্প্রতি লক্ষীপুর ইসলামিয়া আলিম মাদ্রাসার মালিকানা ইউক্যালিপটাস ও মেহগনি গাছ বিক্রির জন্য আটোয়ারী উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কার্যালয় থেকে একটি গাছ বিক্রয় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়। বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী ৪৮টি ইউক্যালিপটাস ও ৯টি মেহগনি মোট ৫৭টি গাছ বিক্রির সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। এরপর প্রয়োজনীয় কাজ সম্পন্ন করা হয়।
লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে জানা যায়, নির্ধারিত ৫৭টি গাছের পরিবর্তে প্রায় ৭৩টিরও বেশি গাছ কাটা হয়েছে। এই ঘটনাটি এলাকায় ফাঁস হয়ে যায়।এরপর সেটি প্রকাশ্যে আসে।ওই লিখিত অভিযোগকারী লুৎফর রহমান, ঝলঝলি গ্রামের মৃত সিরাজুল ইসলামের ছেলে এবং সংশ্লিষ্ট মাদরাসার গভর্নিং বডির নির্বাচিত অভিভাবক সদস্য।
তিনি তার লিখিত অভিযোগে দাবী করে জানান, নির্ধারিত সংখ্যার অতিরিক্ত গাছ কেটে দ্রত সরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে, যা সরকারী নীতিমালা ও দরপত্রের শর্ত লঙ্ঘন।ওই অভিযোগে আরো তিনি আরো বলেন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সম্পদ ব্যবস্থাপনায় এ ধরনের অনিয়ম অত্যন্ত উদ্বেগজনক । এটি গুরুত্বের সাথে তদন্ত সাপেক্ষে দায়ীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহনের দাবী করেন তিনি। উক্ত অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, লক্ষীপুর ইসলামিয়া আলিম মাদ্রাসাটি আটোয়ারী উপজেলার একমাত্র আলিম মাদ্রাসা হওয়ায় বিষয়টি বিশেষ গুরুত্ব বহন করে আসছে।
অভিযোগে আরো বলা হয় গাছ বিক্রয় বিজ্ঞপ্তির শর্ত অনুযায়ী, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে দরপত্র দাখিল, উন্মুক্ত দরপত্র গ্রহণ এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের উপস্থিতিতে নির্ধারিত সংখ্যক গাছ কর্তনের বাধ্যবাধকতা ছিল। এ ছাড়া দরপত্রের বাইরে অতিরিক্ত কোনও গাছ না কাটার বিষয়ে বিধি মতে কার্যাদেশে স্পষ্ট নির্দেশনা ছিল।
স্থানীয় নানা সূত্রে জানা গেছে, দরপত্রটি মাদ্রাসার এক সহকারী শিক্ষক পেয়েছেন বলে তথ্য পাওয়া গেছে। এবিষয়টি মাদ্রাসার অধ্যক্ষ আব্দুল হাকিম অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, সরকারী দরপত্র প্রক্রিয়া অনুসরণ করেই গাছ বিক্রি করা হয়েছে এবং নির্ধারিত সংখ্যক গাছই কর্তন করা হয়েছে। এতে কোন রকম অনিয়ম হয়নি।
এবিষয়ে আটোয়ারী উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) রিপামনি দেবী জানান, জেলা প্রশাসকের কার্যালয় থেকে পাওয়া অভিযোগের প্রেক্ষিতে এটি তদন্তের জন্য উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসারকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।তদন্ত প্রতিবেদন পেলে পরবর্তীতে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহনের জন্য সুপারিশ করা হবে।#
- সর্বশেষ খবর
- সর্বাধিক পঠিত