ঘটনাস্থলে পুলিশ
পঞ্চগড়ে পরিষদের অর্থ আত্নসাতের অভিযোগ সচিবের বিরুদ্ধে চেয়ারম্যানকে মারতে গিয়ে অবরুদ্ধ সচিব
পঞ্চগড় প্রতিনিধি
প্রকাশ: ১০ এপ্রিল ২০২৬, ১৯:০০ | আপডেট : ১১ এপ্রিল ২০২৬, ০২:১১
পঞ্চগড় সদর উপজেলার হাড়িভাসা ইউনিয়ন পরিষদের সচিব চেয়ারম্যানকে মারতে গিয়ে জনরোষের শিকার , উদ্ধার করলো পুলিশ।বৃহষ্পতিবার রাতে তাকে সদর থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তাকে উদ্ধার করে। ঘটনার পর জনগন তাকে পরিষদে দীর্ঘ সময় অবরুদ্ধ করে রাখেন। এর আগে এই ঘটনাটি ঘটে।
স্থানয়ি সূত্রে জানা গেছে, হাড়িভাসা ইউনিয়ন পরিষদের সচিব আলিউল ইসলামের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে পরিষদ ফান্ডের অর্থ তছরুপ, ইউপি সদস্য, গ্রাম পুলিশ ও সেবা গ্রহীতাদের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগ ছিল। স্থানীয়রা জানায় ,বৃহস্পতিবার বিকেলে ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয়ে সকল ইউপি সদস্যদের নিয়ে একটি বিশেষ সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় আয়-ব্যয়ের হিসাব নিয়ে প্রশ্ন তোলেন চেয়ারম্যান সাইয়েদ নুর-ই-আলম।
এ সময় তার প্রশ্নের জেরে ক্ষুব্ধ হয়ে পড়েন সচিব আলিউল ইসলাম। একপর্যায়ে তিনি ইউপি চেয়ারম্যানের সঙ্গে বাকবিতন্ডাায় জড়িয়ে পড়েন।বিতন্ডা চলাকালে এক পর্যায়ে চেয়ারম্যানের ওপর মারমুখী হয়ে ওঠেন সচিব। উপস্থিত ইউপি সদস্য ও গ্রাম পুলিশ দ্রত হস্তক্ষেপ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করেন। প্যানেল চেয়ারম্যান গোবিন্দ চন্দ্র রায় বলেন, সভায় আয়-ব্যয়ের বিষয়ে জানতে চাইলে সচিব হঠাৎ উত্তেজিত হয়ে যান। পরে চেয়ারম্যানের সঙ্গে বাকবিতন্ডা শুরু হয়।
এমন সময় সচিব চেয়ারম্যানের দিকে তেড়ে যান। আমরা ও গ্রাম পুলিশ মিলে তাকে সরিয়ে পরিস্থিতি শান্ত করি।
পরে বিষয়টি জানাজানি হলে স্থানীয়রা মুহুর্ত্তে পরিষদে এসে সচিবকে অবরুদ্ধ করে রাখে। পরিস্থিতি উত্তেজনাকর হয়ে ওঠে। এ সময় তারা সচিবের দৃষ্টান্তমূলক বিচারের দাবী জানান। একই সঙ্গে তাকে এই ইউনিয়ন পরিষদ থেকে প্রত্যাহারের দাবীও জানান।স্থানীয় বাসিন্দা আবু বক্কর সিদ্দিক বলেন, আমাদের চেয়ারম্যান টানা দুইবারের নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি। তিনি একজন নীতিবান মানুষ। তার সঙ্গে আজকে যা ঘটেছে, তাতে আমরা ক্ষুব্ধ। এমন আচরণের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হওয়া উচিত।
ইউপি সদস্য শফিউল আলম সফিক বলেন, এই সচিব যোগদানের পর থেকেই নিজের ইচ্ছেমত চলেন। অহেতুক ফান্ডের টাকা ব্যয় করেন। আমাদেরকে সবসময় তাচ্ছিল্য করে কথা বলেন, আজকে স্বয়ং চেয়ারম্যানের সঙ্গে যেটা হল তা মানার মত নয়।
ইউপি চেয়ারম্যান সাইয়েদ নুর-ই-আলম বলেন, সচিব একক সিদ্ধান্তে পরিষদের চেয়ার-টেবিলসহ কিছু কেনাকাটা করেন। কেনাকাটায় অতিরিক্ত দাম দেখিয়ে ভাউচার করেছেন। এসব জিজ্ঞেস করলে তিনি অযৌক্তিক আচরণ করেন এবং আমার ওপর মারমুখী হন। বিষয়টি প্রশাসনকে জানানো হয়েছে।এ বিষয়ে সদর ইউএনও ফাহমিদা সুলতানা বলেন, অপ্রীতিকর ঘটনার খবর শুনেছি। অভিযোগ পেলে পরবর্তীতে ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।এ ঘটনার বিষয়টি রাতেই ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ে। সচেতন মানুষ তার এহেন আচরণকে একটি জঘন্য বলে আখ্যায়িত করেছেন।
- সর্বশেষ খবর
- সর্বাধিক পঠিত