‘ব্যক্তি নয়, পরিবারই উন্নয়নের মূল একক’: সংসদে প্রধানমন্ত্রী

  অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ৮ এপ্রিল ২০২৬, ১৬:৩১ |  আপডেট  : ৮ এপ্রিল ২০২৬, ১৯:০১

দেশের ৪ কোটি পরিবারকে পর্যায়ক্রমে ‘ফ্যামিলি কার্ড’-এর আওতায় নিয়ে আসা হবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সংসদ নেতা আজ বলেন, বর্তমান সরকারের দর্শন হলো ‘ব্যক্তি নয়, পরিবারই উন্নয়নের মূল একক’।

আজ সকালে জাতীয় সংসদে প্রশ্নোত্তর পর্বে নোয়াখালী-১ আসনের সংসদ সদস্য এ. এম. মাহবুব উদ্দিনের এক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী একথা বলেন। অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ, বীরবিক্রম। প্রধানমন্ত্রীর প্রশ্ন উত্তর টেবিলে উত্থাপিত হয়।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের নাগরিকদের সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে বর্তমান সরকার ‘ব্যক্তি নয়, পরিবারই উন্নয়নের মূল একক’ এই দর্শনে ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। প্রাথমিক পর্যায়ে গত ১০ মার্চ, ২০২৬ তারিখে দেশের ১০টি জেলা এবং ৩টি সিটি কর্পোরেশনের ৩৭ হাজার ৮১৪টি পরিবারকে ফ্যামিলি কার্ড প্রদান করা হয়েছে।

তিনি আরও জানান, আগামীতে দেশের প্রায় ৪ কোটি প্রান্তিক ও নিম্নবিত্ত পরিবারকে পর্যায়ক্রমে এই কর্মসূচির আওতায় নিয়ে আসার পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের।

নোয়াখালী-১ (চাটখিল ও সোনাইমুড়ী) নির্বাচনী এলাকা প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আশা করছি মাননীয় সংসদ সদস্যের নির্বাচনী এলাকার দরিদ্র পরিবারের নারী সদস্যদের ক্ষমতায়ন ও স্বাবলম্বী করার লক্ষে দ্রুততম সময়ের মধ্যে তাদের এই ফ্যামিলি কার্ডের আওতায় আনা সম্ভব হবে।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, নারী শিক্ষার প্রসার, নারীর ক্ষমতায়ন এবং শিক্ষায় সমান সুযোগ নিশ্চিত করতে সরকার বদ্ধপরিকর।তিনি জানান, এ লক্ষ্যে দেশের সব উপজেলা সদরে একটি করে মহিলা কলেজ সরকারীকরণের বিষয়টি সরকার ইতিবাচকভাবে বিবেচনা করছে। বৃহৎ ও গুরুত্বপূর্ণ উপজেলাগুলোতে নারী শিক্ষার প্রসারে বিশেষ গুরুত্বারোপ করা হচ্ছে।

আজ (বুধবার) সকালে জাতীয় সংসদের প্রশ্নোত্তর পর্বে নওগাঁ-৪ আসনের সংসদ সদস্য ইকরামুল বারী টিপুর এক লিখিত প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী এ কথা জানান।মাইক বিভ্রাটের কারণে প্রায় আধা ঘণ্টা দেরিতে সকাল ১১টায় স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমেদের সভাপতিত্বে অধিবেশন শুরু হয়। অধিবেশনের প্রথম ৩০ মিনিট ছিল প্রধানমন্ত্রীর প্রশ্নোত্তর পর্ব। স্পিকার জানান, বুধবার প্রধানমন্ত্রীর প্রশ্নোত্তর এবং মন্ত্রীদের প্রশ্নোত্তর টেবিলে উপস্থাপিত হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রীর কাছে ইকরামুল বারী টিপুর প্রশ্ন ছিল, নওগাঁ-৪ আসনের মান্দা উপজেলাধীন ‘মান্দা থানা আদর্শ বালিকা বিদ্যালয় ও কলেজ’সহ দেশের সব উপজেলা সদরের একটি করে মহিলা কলেজ সরকারীকরণের কোনো পরিকল্পনা আছে কি না এবং থাকলে তা কতদিনে বাস্তবায়ন করা হবে?

প্রশ্নের জন্য ইকরামুল বারী টিপুকে ধন্যবাদ জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, মান্দা থানা আদর্শ বালিকা বিদ্যালয় ও কলেজসহ দেশের অন্যান্য উপজেলার উপযুক্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোকে সরকারীকরণের বিষয়টি বিদ্যমান নীতিমালা ও প্রয়োজনীয় আর্থিক সংস্থান বিবেচনা করে পর্যায়ক্রমে বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হবে।

শিক্ষা খাতের বরাদ্দকে জিডিপির ৫ শতাংশে উন্নীত করার লক্ষ্যে ৪৩টি ক্ষেত্র চিহ্নিত করে স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করছে সরকার।আজ (বুধবার) সকালে জাতীয় সংসদের প্রশ্নোত্তর পর্বে সিরাজগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য সেলিম রেজার লিখিত প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এ কথা জানান।

তিনি বলেন, ‘বর্তমান গণতান্ত্রিক সরকার শিক্ষাকে জাতির শ্রেষ্ঠ বিনিয়োগ হিসেবে বিবেচনা করে এবং একটি গুণগত, জীবনমুখী ও অন্তর্ভুক্তিমূলক শিক্ষাব্যবস্থা গড়ে তুলতে বদ্ধপরিকর। নির্বাচনী ইশতেহারে শিক্ষা খাতে বরাদ্দ পর্যায়ক্রমে জিডিপির ৫ শতাংশে উন্নীত করার পরিকল্পনার কথা বলা হয়েছে।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘সেই আলোকে শিক্ষা খাতে ৪৩টি ক্ষেত্র চিহ্নিত করে স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। ইশতেহারে প্রাথমিক শিক্ষার মানোন্নয়নে বিশেষভাবে গুরুত্বারোপ করা হয়েছে। সেই লক্ষ্যে চলতি অর্থবছরেই সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ২ লাখ শিক্ষার্থীর মধ্যে বিনামূল্যে স্কুল ড্রেস বিতরণ করা হবে এবং পর্যায়ক্রমে সব উপজেলায় তা সম্প্রসারণ করা হবে। প্রাথমিক শিক্ষার্থীদের পুষ্টির চাহিদা পূরণে পর্যায়ক্রমে সব উপজেলায় স্কুল ফিডিং বা মিড-ডে মিল চালুর পরিকল্পনাও রয়েছে।’

এর আগে মাইক বিভ্রাটের কারণে আধা ঘণ্টা দেরিতে সকাল ১১টায় স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমেদের সভাপতিত্বে সংসদ অধিবেশন শুরু হয়। অধিবেশনের প্রথম ৩০ মিনিট প্রধানমন্ত্রীর প্রশ্নোত্তর পর্ব অনুষ্ঠিত হয়। 

সেলিম রেজার প্রশ্নের জবাবে সরকারের পরিকল্পনা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, ‘নির্বাচনী ইশতেহার অনুযায়ী নতুন প্রজন্মকে বৈশ্বিক প্রতিযোগিতার উপযোগী করে গড়ে তুলতে প্রাথমিক, মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও সমমানের সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে মাল্টিমিডিয়া ক্লাসরুম স্থাপন করা হবে। ডিজিটাল বৈষম্য কমাতে ১ হাজার ৫০০টি প্রতিষ্ঠানে- মাধ্যমিক বিদ্যালয়, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ে- ফ্রি ওয়াই-ফাই সংযোগ দেওয়া হবে। পাশাপাশি প্রতিটি শিক্ষার্থী ও শিক্ষকের জন্য স্বতন্ত্র ডিজিটাল পরিচয় বা ‘এডু-আইডি’ প্রদানের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।’

তিনি বলেন, নির্বাচনী ইশতেহারে মাধ্যমিক পর্যায়ে সাধারণ শিক্ষার পাশাপাশি সবার জন্য কারিগরি শিক্ষা বাধ্যতামূলক করার অঙ্গীকার করা হয়েছে। পর্যায়ক্রমে দেশের সব উপজেলায় টেকনিক্যাল স্কুল ও কলেজ এবং সব জেলায় পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট স্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, ‘কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো আধুনিকায়নের পাশাপাশি আগামী ১৮০ দিনের মধ্যে দেশের ২ হাজার ৩৩৬টি কারিগরি ও ৮ হাজার ২৩২টি মাদ্রাসায় ফ্রি ওয়াই-ফাই সুবিধা চালু করা হবে। মাদ্রাসা শিক্ষাকে আধুনিক ও যুগোপযোগী করতে স্মার্ট ক্লাসরুম স্থাপন, শিক্ষকদের দক্ষতা বৃদ্ধির জন্য প্রশিক্ষণ প্রদান এবং কারিগরি কোর্স অন্তর্ভুক্ত করা হবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘আইসিটি বিভাগের আওতাধীন কম্পিউটার কাউন্সিলের মাধ্যমে আগামী ৬ মাসের মধ্যে শিক্ষার্থীদের আর্টিফিশিয়াল ইন্টিলিজেন্স (এআই), সাইবার সিকিউরিটি, মোবাইল অ্যাপস ডেভেলপমেন্ট অ্যান্ড ডিজাইন ইউজিং ফ্লুটার, পাইথন প্রোগ্রামিং এবং ডিজিটাল মার্কেটিং বিষয়ে ছাত্র-ছাত্রীদের প্রশিক্ষণ দেওয়ার উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে।’

প্রধানমন্ত্রীর জন্য চারটি প্রশ্ন নির্ধারিত ছিল। প্রথম প্রশ্নটি করেন সংসদ সদস্য সেলিম রেজা। তার প্রশ্নটি ছিলো, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী অনুগ্রহ করে বলবেন কি, আপনার সরকারের আমলে শিক্ষাকে অগ্রাধিকার প্রদান, নতুন প্রজন্মকে গুনগত মানসম্পন্ন শিক্ষায় শিক্ষিত করা এবং বর্তমান প্রতিযোগিতাপূর্ণ বিশ্বের সঙ্গে সঙ্গতি রেখে সমমানের উচ্চ শিক্ষা, তথ্য প্রযুক্তি ও দক্ষতায় গড়ে তুলবার লক্ষে আপনার সরকারের কোনো পরিকল্পনা আছে কিনা?

সেলিম রেজা ছাড়া অন্য তিনটি তারকাচিহ্নিত প্রশ্ন করেন ঢাকা-১৯ আসনের সংসদ সদস্য রুশদী। এ ছাড়া আরও পাঁচজন সাংসদ প্রশ্ন উপস্থাপন করেন— পটুয়াখালী-৪ আসনের এবিএম মোশাররফ হোসেন, কুমিল্লা-৯ আসনের আবুল কালাম, ঢাকা-১৯ আসনের দেওয়ান মোহাম্মদ সালাউদ্দিন, নোয়াখালী-১ আসনের এএম মাহবুব উদ্দিন এবং নওগাঁ-৪ আসনের ইকরামুল বারী টিপু।

  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত