মাদারীপুরে পেঁয়াজের বাম্পার ফলন : পেয়াজ বীজ ‘কালোসোনা’ ঘিরে নতুন সম্ভাবনা
এসআর শফিক স্বপন মাদারীপুর
প্রকাশ: ১৮ মার্চ ২০২৬, ২০:০৬ | আপডেট : ১৯ মার্চ ২০২৬, ০১:৩৯
মাদারীপুর জেলার ৪টি উপজেলায় চলতি বছরে পেয়াজ চাষে সম্ভাবনার নতুন দিগন্ত তৈরি করেছে । চলতি মৌসুমে মাদারীপুর জেলায় লক্ষ্যমাত্রার চেয়েও বেশি জমিতে পেঁয়াজ কন্দ, হালি পেঁয়াজ ও পেঁয়াজের বীজ চাষ হয়েছে। তবে জেলা সদরের চেয়ে কালকিনি-ডাসার ও শিবচরে পেয়াজের ভালো ফলন আর বাজার দর সন্তোষজনক থাকায় লাভবান হয়েছেন জেলার কৃষকেরা। পাশাপাশি নতুন তৈরিতে বাড়ছে পেয়াজের সম্ভাবনাও।
জেলার সদর উপজেলা ,কালকিনি -ডাসার,রাজৈর ও শিবচর উপজেলার মাঠজুড়ে সারি সারি পেঁয়াজের কন্দ, সবুজে মোড়া বিস্তীর্ণ ফসলের মাঠ। কোথাও সদ্য তোলা কন্দ পেঁয়াজ, আবার কোথাও বাতাসে দুলছে বীজের ফুল। মাদারীপুরের দিগন্ত জোড়া মাঠ যেন এখন পেঁয়াজের সুবাসে ভরপুর।
মাদারীপুর জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সুত্রে জানাযায়, চলতি বছরে জেলার ৪ টি উপজেলায় কন্দ পেঁয়াজ চাষের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৪ হাজার ৫০ হেক্টর জমিতে। তবে কৃষকদের আগ্রহ আর পরিশ্রমে সেই লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে এবার চাষ হয়েছে প্রায় ৪ হাজার ২৬২ হেক্টর জমিতে।ইতোমধ্যেই এসব পেঁয়াজের বড় একটি অংশ বাজারজাত করা হয়েছে। ভালো দাম পাওয়ায় কৃষকের মুখেও ফুটেছে স্বস্তির হাসি।
মাদারীপুর জেলার বিভিন্ন মাঠে এখন দেখা যাচ্ছে হালি পেঁয়াজ ও পেঁয়াজের বীজের চাষ।হালি পেঁয়াজ চাষের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৬৭৩ হেক্টর জমিতে, তবে কৃষকদের আগ্রহে এবার তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে প্রায় ৬৯৪ হেক্টর জমিতে।
মাদারীপুরে পেঁয়াজের বীজ উৎপাদনে ৪২ হেক্টর জমিতে লক্ষ্যমাত্রা থাকলেও বাস্তবে চাষ হয়েছে প্রায় ৭৪ হেক্টর জমিতে। পেয়াজ চাষী কাইয়ুম জানান,বাজারে পেঁয়াজের বীজের দাম অনেক বেশি হওয়ায় আমরা একে ভালোবেসে‘কালোসোনা’ নামে ডাকি। এক কেজি পেঁয়াজের বীজ বিক্রি হয় প্রায় ৭ থেকে ৮ হাজার টাকা, কখনো এর চেয়েও বেশি দামে।
এদিকে বিগত কয়েক বছরের তুলনায় মাদারীপুরে পেঁয়াজের আবাদ ও উৎপাদন উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। এতে অনেক তরুণও এখন এই খাতে উদ্যোক্তা হিসেবে যুক্ত হচ্ছেন।পেঁয়াজের বীজ উৎপাদনের ক্ষেত্রে সাধারণত মৌমাছির মাধ্যমে পরাগায়ন হয়ে থাকে। তবে বেশি ফলনের আশায় অনেক কৃষক এখন হাতের মাধ্যমে কৃত্রিম পরাগায়ন পদ্ধতিও ব্যবহার করছেন। এতে বীজের উৎপাদন আরও বাড়ে।
মাদারীপুর জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ পরিচালক ড. রহিমা খাতুন বলেন, পিয়াজ চাষে প্রনোদনাসহ কৃষকদের সার্বিক সহযোগিতা করছি।তাদেরকে সময় মতো বীজ ও সার দিয়ে সহযোগিতা করেছি।লক্ষ্যমাত্রার চেয়েও বেশি জমিতে পেঁয়াজ চাষ আর ‘কালোসোনা’ খ্যাত পেঁয়াজের বীজ উৎপাদন—সব মিলিয়ে মাদারীপুরের কৃষিতে তৈরি হয়েছে নতুন সম্ভাবনার দুয়ার। আর এই সম্ভাবনাকে ঘিরেই বাড়ছে তরুন উদ্যেক্তাদের স্বপ্ন।
- সর্বশেষ খবর
- সর্বাধিক পঠিত