মোংলা-ঘোষিয়াখালী চ্যানেলে ভূমিদস্যুদের বাঁধ দেওয়ার চেষ্টা ভন্ডুল প্রতিমন্ত্রীর নির্দেশে
স্টাফ রিপোটার,বাগেরহাট
প্রকাশ: ১৫ মার্চ ২০২৬, ১৮:৫৩ | আপডেট : ১৬ মার্চ ২০২৬, ০০:৫৪
বাগেরহাটের রামপালে মোংলা-ঘোষিয়াখালী আন্তর্জাতিক নৌ চ্যানেলের একটি অংশে বাঁধ দিয়ে দখলের চেষ্টার অভিযোগ পাওয়া গেছে। এমন অভিযোগের খবর পেয়ে প্রতিমন্ত্রী ডক্টর ফরিদুল ইসলামের নির্দেশে অভিযান পরিচালনা করে বাঁধ নির্মাণ ভন্ডুল করেন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) অভিজিৎ চক্রবর্তী।
জানা গেছে, মোংলা-ঘোষিয়াখালী ভারত বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক নৌ চ্যানেলটির ৫ কিলোমিটার নদী খনন না করায় পলি পড়ে ভরাট হয়ে যায়। এক সময় চ্যানেলের মুজিবনগর এলাকার নদী ভরাটি জমি কথিত জমির মালিকেরা নদী ভাঙা জমির কাগজপত্র তৈরি করে হাজার একর জমি দখল করে নেয়। এছাড়াও সরকারি মালিকানা জমিও দখলবাজেরা দখল করে বাড়ি-ঘর নির্মাণ করে ও মৎস্য চাষ শুরু করে দখলে নেয়। বিগত সরকারের সময়ে সংশ্লিষ্ট দপ্তরের নজরদারির অভাবে কোটি কোটি টাকার জমি এভাবে বেহাত হয়ে যায়। অভিযোগ রয়েছে বিগত সেটেলমেন্ট জরিপের সময় অসাধু কর্মকর্তাদের ম্যানেজ করে নদী ভাঙা জমি রেকর্ড করায়। শিখন্তি বা পয়োন্তি দাবি করে আবার কেউ কেউ নদী ভরাটি জমি নিজের দাবি করে আদালত থেকে একতরফা রায় করিয়ে সরকারি জমি মালিকানায় নিয়েছে।এভাবে মোংলা-ঘোষিয়াখালী চ্যানেলের মুজিবনগর এলাকার ৫ কিলোমিটার নদীর চর ভরাটি হাজার একর জমি দখল হয়ে গেছে।
সরকারি বিধি অনুযায়ী নদীর তীরভূমি বা পল্টাবনভূমি সরকারের মালিকানায় থাকার কথা। কিন্তু সেসব জমি এখন ভূমিদস্যুের পেটে। তারা এখানেই থামেনি। নির্বাচিত সরকার ক্ষমতা গ্রহণের পরে একের পর এক দখলদারদের নিয়ন্ত্রণে চলে যাচ্ছে নদী ও খাল।
গত ১২ মার্চ সকালে চ্যানেল দখলের বিষয়টি রামপাল-মোংলা আসনের সংসদ সদস্য ও বন, পরিবেশ ও জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ডক্টর শেখ ফরিদুল ইসলামকে জানান এলাকাবাসী। তাৎক্ষণিকভাবে তিনি রামপাল উপজেলা সহকারী কমিশনারকে দ্রæত পদক্ষেপ গ্রহণের নির্দেশ দেন। সহকারী কমিশনার (ভূমি) অভিজিৎ চক্রবর্তী তাৎক্ষণিকভাবে মুজিবনগর এলাকায় অভিযান পরিচালনা করেন। সরেজমিনে গিয়ে তিনি চ্যানেলে বাঁধ দিতে দেখেন।
জমির মালাকানা দাবি করা উপস্থিত ফকির রুহুল আমিনকে প্রশ্ন করা হয়, চ্যানেলে বাঁধ দিচ্ছেন কেন? সে জানায় জমি তার ভাই শাহাদাৎ, জাফর ও তাদের। তাই সে বাঁধ দিচ্ছে! কড়া ভাষায় বাঁধ দেওয়া বন্ধ করার নির্দেশ দেন সহকারী কমিশনার।
ওই একই সময়ে স্যাদলার পাশ খালের বাঁধ দ্রæততম সময়ের মধ্যে কেটে দেয়ার নির্দেশ দেন ওই কর্মকর্তা। এছাড়াও বাইনতলা ইউনিয়নের দূর্গাপুর গ্রাম জনৈক সৈয়দ জাহিদ হোসেনের দখলে থাকা কাটাখালির খাল এ গোহালটের জায়গা ছেড়ে দেওয়ার নির্দেশ দেন। নির্দেশ অমান্য করা হলে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলেও হুসিয়ার করেন তিনি।
- সর্বশেষ খবর
- সর্বাধিক পঠিত