রাজনীতির মাঠে নিড়ানি জরুরি
অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: ৩০ জুলাই ২০২১, ১৪:০৪ | আপডেট : ৭ আগস্ট ২০২৬, ১৭:২১
বিতর্কিত মহিলা হেলেনা জাহাঙ্গীর আওয়ামী লীগ থেকে বহিস্কার হওয়ার পর এবার র্যাবের হাতে গ্রেফতার হয়েছে। গত ২৯ জুলাই রাতে র্যাব তার গুলশানের বাসায় চার ঘণ্টা তল্লাশী চালিয়ে বিপুল পরিমান মদের বোতল, হরিণ এবং ক্যাঙ্গারুর চামড়া, অবৈধ বৈদেশিক মুদ্রা উদ্ধার করেছে। তার বিরদ্ধে মাদকদ্রব্য আইন ও বন্যপশু সংরক্ষণ আইনে মামলা দায়ের করা হচ্ছে বলে সংবাদমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে।
কোনো কোনো সংবাদমাধ্যমে হেলেনা জাহাঙ্গীরের উত্থানের যে কাহিনি প্রকাশিত হয়েছে, তা রীতিমেতো বিস্ময়কর। সাধারণ এবং অখ্যাত একজন গৃহবধু শুধু তার গ্ল্যামারকে পুজি করে সমাজ ও রাজনীতির কিছু উঁচু তলার মানুষের কৃপায় তরতর করে উঠে গিয়েছিল উপরের দিকে। সে নিজেকে আওয়ামী লীগের অনুসারী পরিচয় দিলেও অতীতে তার বিএনপির সাথে সম্পৃক্ত থাকার কথাও লিখেছে কয়েকটি গণমাধ্যম। টাকার জোরে সমাজের উপরতলায় অবস্থান নিয়ে সে নিজেকে কেউকেটা ভাবতে শুরু করেছিল। কোনো এক ভেলকিবাজিতে আওয়ামী লীগের কন্দ্রীয় মহিলা উপকমিটি এবং কুমিল্লা জেলা আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা হিসেবেও ঠাঁই করে নিতে সক্ষম হয়েছিল। অনলাইন টেলিভিশন জয়যাত্রা টিভি খুলে প্রতিনিধি নিয়োগ দিয়ে হাতিয়ে নিয়েছিল কয়েক কোটি টাকা। এছাড়া জয়যাত্রা ফাউন্ডেশন নামে একটি কাগুজে সংগঠন তৈরি করে এর চেয়ারম্যান সেজে চাঁদাবজিটাও বেশ জমিয়ে করে আসছিল। তার উচ্চাকাক্সক্ষা এতটাই লাগামহীন হয়ে উঠেছিল যে, ঢাকা উত্তর সিটির মেয়র নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী হওয়ার জন্য উঠেপড়ে লেগেছিল। তবে ভাগ্যের শিকে তার ছিড়েনি। সামজিক মাধ্যমে নিজের এবং ওইসব কাগুজে সংগঠনের তথাকথিত তৎপরতার ছবি প্রচার করে কারো কারো চোখ যে সে ধাঁধিয়ে দিতে পেরেছিল তা বেশ বোঝা যাচ্ছিল। এমন কি একজন প্রভবশালী মন্ত্রেিক সে তার জয়যাত্রা টেলিভিশনের চেয়ারম্যান পদেও বসাতে সক্ষম হয়েছিল।
কথায় আছে মানুষ যখন সীমা ছাড়িয়ে যায়, তখনই তার পতনের সিঁড়ি তৈরি হয়। ক্ষমতাসীন দলের কয়েক নেতার স্নেহধন্য হেলেনার ধান্দাবাজির সর্বশেষ প্রকল্প ছিল আওয়ামী চাকরিজীবী লীগ নামের ভৃঁইফোড় সংগঠন প্রতিষ্ঠা এবং দেশের সব জেলা -উপজেলাও বিদেশে শাখা কমিটির সভাপতি-সাধারণ সম্পাদক নিযোগের বিজ্ঞপ্তি সামাজিক মাধ্যমে প্রচার করা। তার এই সর্বশেষ চালিয়াতিই শেষ পর্যন্ত হয়ে গেল তার ধান্দাবাজির কফিনের শেষ পেরেক। সে এখন আইনশৃক্সখলা বাহিনীর হেফাজতে। আদালতের রায়ের ওপর তার ভাগ্য নির্ধাপরণ করছে।
একজন হেলেনা জাহাঙ্গীরের কী হলো না হলো সেটা বড় ব্যাপার নয়। বড় কথা হলো এ ধরনের কতিপয় পুরুষ-মহিলার জন্য রাজনীতি আজ মানুষের কাছে প্রশ্নবিদ্ধ। এরা রাতারাতি কীভাবে উপরে উঠে যেতে পারে সে রহস্য এখন অনেকেরই গোচরে। রাজনীতির নামে এরা ধান্দবাজির যে পন্থা গ্রহণ করে থাকে তা দেশের রাজনীতির মুখে কালিমা লেপে দিচ্ছে। সম্প্রতি পত্রিকায় দেশের দুটি বৃহৎ রাজনৈতিক দল ও ওগুলোর মৃত ও জীবিত নেতা-নেত্রীদের নামে হরেক কিসিমের শতাধিক করে সংগঠনের অস্তিত্বের বেরিয়েছে। এসব সংগঠনের কোনোটিরই দলীয় অনুমোদন না থাকলেও দলের শীর্ষ পর্যায়ের কিছু নেতার আশীর্বাদ তাদের মাথার ওপর রয়েছে। আর সেজন্যই শত সমালোচনা সত্তে¡ও এদের অপতৎপরতা বন্ধ হচ্ছে না। হেলেনা জাহাঙ্গীরের আওয়ামী চাকরিজীবী লীগে ছিল ওই ধান্দবাজির সর্বশেষ উদাহরণ।
মাঠে ফসলের চাষ করলে তার সাথে আগাছা জন্মানো অস্বাভাবিক নয়। তবে মূল ফসলকে রক্ষা করতে হলে নিড়ানি দিয়ে আগাছা উপড়ে ফেলতে হয়। শামীমা নীর পাপিয়া, মো. সাহেদ, ডা. সাবরিনা, হেলেনা জাহাঙ্গীররা রাজনীতির ফসলের মাঠে আগাছা। এদেরকে সমূলে উৎপাটিত করা না গেলে ফসল রক্ষা অসম্ভব হয়ে দাঁড়াবে। আশার কথা সরকার বেশ দৃঢ় হাতেই সে নিড়ানির কাজটি শুরু করেছে। আর তার ফলেই হতাশার মেঘের মধ্যেও দেশবাসী আশার সূর্যের আলো দেখতে পাচ্ছে।
- সর্বশেষ খবর
- সর্বাধিক পঠিত