সোনালী স্বপ্নে বিভোর চলনবিলের কৃষকরা

সিংড়ায় উৎসবমুখর পরিবেশে বোরো ধান কাটা শুরু

  রাকিবুল ইসলাম, সিংড়া (নাটোর) প্রতিনিধি

প্রকাশ: ২১ এপ্রিল ২০২৬, ১৫:৫৭ |  আপডেট  : ২১ এপ্রিল ২০২৬, ১৮:১৬

শস্যভাণ্ডার খ্যাত চলনবিলাঞ্চলের দিগন্তজোড়া মাঠে এখন সোনালী ধানের মৌ মৌ গন্ধ। দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর কৃষকের ঘামঝরা সেই সোনালী স্বপ্ন ঘরে তোলার মহোৎসব শুরু হয়েছে। 

মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) দুপুরে নাটোরের সিংড়া উপজেলার চৌগ্রাম ইউনিয়নের কবিরগঞ্জ পয়েন্ট এলাকায় আনুষ্ঠানিকভাবে বোরো ধান কর্তন উৎসব-১৪৩৩ এর উদ্বোধন করা হয়।

দুপুর ১২টার দিকে কৃষক আবুল কালাম আজাদের ২৫ বিঘা জমির ‘জিরা সাইল’ জাতের ধান কাটার মধ্য দিয়ে এ উৎসবের উদ্বোধন করেন নাটোর জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক হাবিবুল ইসলাম খান ও সিংড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আব্দুল্লাহ আল রিফাত। অনুষ্ঠানে প্রশাসনের বিভিন্ন স্তরের কর্মকর্তারা কাস্তে হাতে কৃষকের সাথে ধান কাটায় অংশ নিয়ে আনন্দ ভাগ করে নেন।

নিজের জমির ধান কাটা দেখে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন কৃষক আবুল কালাম আজাদ। তবে আনন্দের পাশাপাশি মনের কোণে কিছুটা শঙ্কাও প্রকাশ করেন তিনি। তিনি বলেন, এই ধান শুধু আমাদের ফসল না, এটা আমাদের স্বপ্ন। দিন-রাত এক করে রক্ত পানি করে জমিতে পড়ে থাকতাম। আজ যখন চোখের সামনে সোনালী ধান ঘরে উঠছে, তখন সব কষ্ট সার্থক মনে হচ্ছে। তবে আমাদের একটাই চাওয়া সরকার যেন ধানের সঠিক দাম নিশ্চিত করে। চড়া দামে সার-কীটনাশক কিনে আবাদ করেছি, এখন যদি ন্যায্য দামটা পাই তবেই পরিবারের মুখে হাসি ফুটে থাকবে।

উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, এ বছর সিংড়া উপজেলায় বোরো আবাদের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৩৬ হাজার ৬০০ হেক্টর, যা ছাড়িয়ে অর্জিত হয়েছে ৩৬ হাজার ৬১০ হেক্টর। গত বছর আবাদ হয়েছিলো ৩৬ হাজার ৫৫০ হেক্টর।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ খন্দকার ফরিদ বলেন, চলনবিলে এবার ধানের বাম্পার ফলন হয়েছে। ইতোমধ্যে প্রায় ৮০ শতাংশ ধান পেকে গেছে। আমাদের বড় ভয় ছিল শ্রমিক সংকট নিয়ে, তবে এবার পর্যাপ্ত শ্রমিক আছে। কৃষকের এই সোনার ফসল যেন কোনো বাধা ছাড়াই দ্রুত ঘরে উঠে, আমরা সেই চেষ্টাই করছি।

সিংড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আব্দুল্লাহ আল রিফাত কৃষকদের আশ্বস্ত করে বলেন, চলনবিলের কৃষকের সমৃদ্ধিই আমাদের লক্ষ্য। কৃষকরা যাতে কোনো মধ্যস্বত্বভোগীর হয়রানি ছাড়া সরাসরি সরকারি গুদামে ধান দিয়ে ন্যায্যমূল্য পেতে পারেন, সে বিষয়ে প্রশাসন কঠোর অবস্থানে রয়েছে। বোরো আবাদে সেচ সুবিধা নির্বিঘ্ন রাখতে আমরা ঊর্ধ্বতন মহলে যোগাযোগ করেছি। ফলে কৃষকদের সুবিধার্থে সিংড়ায় আগের তুলনায় ১০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ বরাদ্দ বাড়ানো হয়েছে, যা চাষিদের সেচ কাজে বড় ধরণের সহায়তা দিচ্ছে।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন সিংড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রফিকুল ইসলাম, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা খন্দকার ফরিদ, সিনিয়র উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. শাহাদত হোসেন, উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা উজ্জ্বল কুমার রায় ও প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মিঠুন কুন্ডুসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি ও গণমাধ্যমকর্মীরা।

তপ্ত রোদে ধান কাটার শব্দ আর কৃষকের উচ্ছ্বাসে আজ যেন এক অন্যরকম উৎসবে মেতেছে চলনবিলের বুক। কৃষকের আশা, প্রকৃতির সহায়তায় শেষ পর্যন্ত ঘরে উঠবে তাদের কষ্টের ফসল।
 

  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত