মিলি ২২ বছরেই ২৪৫ কোটি টাকার মালিক
অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১৩:৫৪ | আপডেট : ২০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০২:৫৯
আজ ১৯ জানুয়ারি মিলি ববি ব্রাউনের জন্মদিন। নেটফ্লিক্সের আলোচিত সিরিজ ‘স্ট্রেঞ্জার থিংস’ দিয়ে বিশ্বজুড়ে পরিচিতি পেয়েছেন; মাত্র ২২ বছরেই হয়ে উঠেছেন নেট দুনিয়ার অন্যতম চর্চিত মুখ। শিশুশিল্পী থেকে প্রযোজক-উদ্যোক্তা—মিলির পথচলা যেন স্বপ্নের মতোই। জন্মদিনে ফিরে দেখা যাক তাঁর ক্যারিয়ার ও ব্যক্তিগত জীবন।
শৈশব, স্বপ্ন ও সংগ্রামের শুরু
২০০৪ সালের ১৯ ফেব্রুয়ারি স্পেনের মারবেলায় জন্ম মিলির। মা–বাবার সঙ্গে অল্প বয়সেই পাড়ি জমান ইংল্যান্ডে, পরে যুক্তরাষ্ট্রে। অভিনয়ের স্বপ্ন নিয়ে লস অ্যাঞ্জেলেসে গিয়ে শুরু হয় কঠিন সময়। অডিশনে বারবার ‘না’ শোনা, পরিবারের আর্থিক টানাপোড়েন—সব মিলিয়ে একপর্যায়ে প্রায় হাল ছাড়ার উপক্রম। কিন্তু ভাগ্য তখন তাঁর জন্য অন্য পরিকল্পনা করে রেখেছে।
কিশোর বয়সে টিভি সিরিজে ছোট ছোট চরিত্রে কাজের সুযোগ পেলেও বড় সুযোগ আসে ২০১৬ সালে।
‘ইলেভেন’ হয়ে বিশ্বজয়
নেটফ্লিক্সের সিরিজ ‘স্ট্রেঞ্জার থিংস’-এ ‘ইলেভেন’ চরিত্রে অভিনয় মিলিকে রাতারাতি বিশ্বতারকায় পরিণত করে। টেলিকাইনেটিক ক্ষমতাসম্পন্ন, কম কথার রহস্যময় মেয়েটির চোখেমুখে যে যন্ত্রণা ও শক্তির মিশেল, তা দর্শককে মুগ্ধ করে। সিরিজটি শুধু জনপ্রিয়ই হয়নি, বরং পপ–সংস্কৃতির অংশ হয়ে উঠেছে। এই চরিত্রের জন্য মিলি পেয়েছেন একাধিক মনোনয়ন ও পুরস্কার; সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ, অল্প বয়সে এমি মনোনয়ন পেয়ে তিনি আলোচনায় আসেন। কিশোর বয়সেই এমন স্বীকৃতি তাঁকে আলাদা মর্যাদা দেয়।
হলিউডে বিস্তার: দানব থেকে গোয়েন্দা
‘স্ট্রেঞ্জার থিংস’-এর সাফল্যের পর মিলি বড় পর্দায় পা রাখেন। মনস্টার ইউনিভার্সের ছবি ‘গডজিলা: কিং অব দ্য মনস্টার্স’ ও এর সিক্যুয়েলে অভিনয় করে তিনি প্রমাণ করেন—টিভির গণ্ডি পেরিয়ে ব্লকবাস্টারেও তিনি স্বচ্ছন্দ।অন্যদিকে ‘এনোলা হোমস’-এ শার্লক হোমসের বোন এনোলা চরিত্রে অভিনয় করে এক নতুন পরিচয় গড়েন। শুধু অভিনয় নয়, এই ছবিতে তিনি নির্বাহী প্রযোজক হিসেবেও যুক্ত ছিলেন, যা তাঁর ক্যারিয়ারের বড় মাইলফলক। কিশোরী গোয়েন্দার প্রাণবন্ত উপস্থিতি দর্শক-সমালোচক—দুপক্ষের কাছেই প্রশংসিত হয়। সিক্যুয়েলও আসে, আর মিলির প্রযোজক-পরিচয় আরও পোক্ত হয়।
সোশ্যাল মিডিয়ার চাপ ও ব্যক্তিগত লড়াই
বিশ্বখ্যাতির সঙ্গে আসে সমালোচনা ও ট্রোলিং। অল্প বয়সে খ্যাতির ভার কাঁধে নিয়ে মিলিকে সোশ্যাল মিডিয়ার বিষাক্ত আক্রমণের মুখেও পড়তে হয়েছে। একসময় টুইটার অ্যাকাউন্ট বন্ধ করতে বাধ্য হন।মিলি খোলাখুলি জানিয়েছেন খ্যাতির চাপে মানসিক স্বাস্থ্যের যত্ন নেওয়া কতটা জরুরি। কিশোরী বয়সে গ্ল্যামার ইন্ডাস্ট্রির তীব্র আলোছায়া তাঁকে দ্রুত পরিণত করেছে। তিনি বিভিন্ন সাক্ষাৎকারে বুলিংয়ের বিরুদ্ধে কথা বলেছেন, তরুণদের আত্মবিশ্বাসী হওয়ার বার্তা দিয়েছেন।
প্রেম, সম্পর্ক ও বিয়ে
কিশোর বয়স থেকেই মিলির প্রেমজীবন নিয়ে মিডিয়ার কৌতূহল। তবে তাঁর জীবনের বড় অধ্যায় শুরু হয়, যখন তিনি সম্পর্কে জড়ান জেক বোনজভির সঙ্গে। জেক হলেন কিংবদন্তি সংগীতশিল্পী জন বন জোভির ছেলে।দুজনের সম্পর্ক প্রকাশ্যে আসে সোশ্যাল মিডিয়ায়। ধীরে ধীরে পারিবারিক ঘনিষ্ঠতা, রেড কার্পেট উপস্থিতি—সব মিলিয়ে সম্পর্কটি স্থায়ী রূপ পায়। ২০২৩ সালে বাগ্দান, এরপর বিয়ের খবর বিশ্বমাধ্যমে শিরোনাম হয়। অল্প বয়সে বিয়ে নিয়ে নানা আলোচনা থাকলেও মিলি জানিয়েছেন, এটি ছিল তাঁদের পারস্পরিক সিদ্ধান্ত, পরিবারও পাশে ছিল।বিয়ের পরও মিলি কাজ থামাননি; বরং ব্যক্তিগত স্থিতি তাঁকে আরও মনোযোগী করেছে বলে জানান।
উদ্যোক্তা মিলি: নিজের ব্র্যান্ড
অভিনয়ের বাইরে মিলির আরেক পরিচয়—উদ্যোক্তা। তিনি প্রতিষ্ঠা করেন বিউটি ব্র্যান্ড ফ্লোরেন্স বাই মিলি। তরুণ প্রজন্মের জন্য স্কিনকেয়ার ও কসমেটিকস পণ্য নিয়ে ব্র্যান্ডটি দ্রুত জনপ্রিয় হয়।এই ব্র্যান্ডের নামকরণ তাঁর প্রপিতামহীর নামে, যা ব্যক্তিগত আবেগের ইঙ্গিত দেয়। ব্যবসায়িক দৃষ্টিভঙ্গি, সোশ্যাল মিডিয়া উপস্থিতি ও বিশ্বব্যাপী ফ্যানবেস—সব মিলিয়ে ব্র্যান্ডটি বড় বাজার দখল করে। মিলি প্রমাণ করেন, তিনি শুধু পর্দার তারকা নন; সমসাময়িক ব্র্যান্ড–সংস্কৃতিরও অংশ।
সম্পদের পরিমাণ ও আর্থিক অবস্থান
অল্প বয়সেই মিলি বিপুল সম্পদের মালিক। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের হিসাব অনুযায়ী তাঁর মোট সম্পদের পরিমাণ কয়েক ২০ মিলিয়ন ডলার বা ২৪৫ কোটি টাকার বেশি, যা টিভি সিরিজের পারিশ্রমিক, চলচ্চিত্র, ব্র্যান্ড এন্ডোর্সমেন্ট ও নিজস্ব ব্যবসা থেকে এসেছে।
‘স্ট্রেঞ্জার থিংস’ থেকে মিলির আয়ের বড় অংশ এসেছে। পাশাপাশি বড় প্রযোজনা সংস্থার সঙ্গে চুক্তি ও প্রযোজক হিসেবে অংশীদারত্ব তাঁর আর্থিক অবস্থানকে আরও শক্ত করেছে। তরুণ বয়সেই আর্থিক স্বনির্ভরতার এই উদাহরণ হলিউডে বিরল নয়, তবে মিলির ক্ষেত্রে তা বিশেষভাবে আলোচিত।
ইমেজ, প্রভাব ও সমালোচনা
মিলি এমন এক প্রজন্মের প্রতিনিধি, যারা সোশ্যাল মিডিয়ায় বড় হয়েছে। তাঁর স্টাইল, ফ্যাশন সেন্স, রেড কার্পেট লুক—সবই কিশোর-তরুণদের কাছে ট্রেন্ড তৈরি করে।তবে সমালোচনাও কম নয়। অল্প বয়সে অতিরিক্ত গ্ল্যামারাইজেশন, ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে মিডিয়ার কৌতূহল—এসব নিয়ে বিতর্ক হয়েছে। মিলি বরাবরই বলেছেন, তিনি নিজের শর্তে বড় হতে চান। তাঁর ভাষায়, ‘আমি শুধু অভিনেত্রী নই, একজন মানুষ—আমার বেড়ে ওঠার অধিকার আছে।’
সামনে যে পথ
‘স্ট্রেঞ্জার থিংস’ শেষ। ফলে মিলির সামনে নতুন অধ্যায়। ইতিমধ্যে নতুন চলচ্চিত্র প্রকল্প, প্রযোজনার পরিকল্পনা ও ব্যবসা সম্প্রসারণ নিয়ে কাজ করছেন। হলিউডে দীর্ঘমেয়াদি অবস্থান গড়তে তিনি সচেতনভাবে চরিত্র বেছে নিচ্ছেন।অনেকে মনে করেন, শিশু তারকা হিসেবে শুরু করা শিল্পীদের জন্য প্রাপ্তবয়স্ক অভিনেত্রী হিসেবে টিকে থাকা কঠিন। কিন্তু মিলির পরিকল্পিত পদক্ষেপ—প্রযোজনা, ব্যবসা, ব্র্যান্ডিং—তাঁকে অন্যদের থেকে আলাদা করেছে।
কসমোপলিটন, ভোগ অবলম্বনে
- সর্বশেষ খবর
- সর্বাধিক পঠিত