দীর্ঘদিন ভর্তুকি দিয়ে জ্বালানির চাহিদা পূরণ করা সরকারের পক্ষে সম্ভব নয়: ড. ম. তামিম

  অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ৪ এপ্রিল ২০২৬, ১৬:১৪ |  আপডেট  : ৪ এপ্রিল ২০২৬, ১৮:১৬

মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাত দীর্ঘস্থায়ী হলে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে চাপ বাড়বে এবং তার প্রভাব বাংলাদেশেও পড়বে-এ অবস্থায় দেশে জ্বালানির দাম সমন্বয় করা অনিবার্য হয়ে উঠতে পারে বলে জানিয়েছেন জ্বালানি বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ড. ম. তামিম। তিনি বলেন, দীর্ঘদিন ভর্তুকি দিয়ে জ্বালানির চাহিদা পূরণ করা সরকারের পক্ষে সম্ভব নয়।

শনিবার (০৪ এপ্রিল) এফডিসিতে ডিবেট ফর ডেমোক্রেসি আয়োজিত ‘জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় করণীয়’ শীর্ষক ছায়া সংসদে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সংগঠনটির চেয়ারম্যান হাসান আহমেদ চৌধুরী কিরণ।

ড. তামিম বলেন, অতীতে অভ্যন্তরীণ জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থা শক্তিশালী না করে ব্যক্তি ও দলীয় স্বার্থে আমদানিনির্ভরতা বাড়ানো হয়েছে। ফলে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহে বিঘ্ন ঘটলে বাংলাদেশ সংকটে পড়ছে। জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আগের নীতির সংশোধন জরুরি বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

তিনি আরও বলেন, মধ্যপ্রাচ্য সংকট শুরুর আগে দেশে মাত্র দুই দিনের জ্বালানি মজুদ ছিল।তখন আতঙ্ক না থাকলেও এখন ৭ থেকে ১৫ দিনের মজুদ থাকার পরও অযথা আতঙ্ক সৃষ্টি হচ্ছে। অনেকেই চাহিদার চেয়ে বেশি পেট্রোল ও অকটেন কিনছেন, যদিও প্রকৃত সংকটের আশঙ্কা ডিজেল নিয়ে।

সরকারি তথ্যে আস্থাহীনতার কথাও তুলে ধরে তিনি বলেন, অতীতে জ্বালানি মজুদ ও সরবরাহ নিয়ে বিভ্রান্তিকর তথ্য দেওয়ায় এখন জনগণ সরকারি তথ্য বিশ্বাস করতে চায় না। তিনি জানান, পাকিস্তানে বাংলাদেশের তুলনায় দ্বিগুণ দামে জ্বালানি বিক্রি হচ্ছে।

ড. তামিম বলেন, বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি) বিগত সময়ে প্রতিবছর তিন হাজার কোটি টাকার নিচে মুনাফা করেনি। গত দশ বছরে প্রায় ৩০ হাজার কোটি টাকা লাভ হলেও সেই অর্থ সংকট মোকাবিলার জন্য সংরক্ষণ না করে অন্য খাতে ব্যয় করা হয়েছে।

সভাপতির বক্তব্যে হাসান আহমেদ চৌধুরী কিরণ বলেন, ভুল নীতির কারণে বর্তমান বৈশ্বিক পরিস্থিতিতে দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা বিঘ্নিত হচ্ছে। জ্বালানি খাতে স্বনির্ভরতা অর্জনে নেতৃত্বের ব্যর্থতার মাশুল জনগণকে দিতে হচ্ছে।

তিনি কুইক রেন্টাল বিদ্যুৎকেন্দ্রের ক্যাপাসিটি চার্জ, আদানির সঙ্গে বিদ্যুৎ চুক্তি এবং অতীতের বিদ্যুৎ-জ্বালানি চুক্তিগুলো পুনর্মূল্যায়নের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

কিরণ বলেন, জনগণকে স্বস্তিতে রাখতে সরকার প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ ভর্তুকি দিচ্ছে, তবে বৈশ্বিক বাজার পরিস্থিতির কারণে জ্বালানির দাম সমন্বয়ের পরিকল্পনাও রয়েছে। তিনি প্যানিক বায়িং থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানান এবং জ্বালানি নিয়ে অস্থিরতা সৃষ্টির বিরুদ্ধে সতর্ক থাকার কথা বলেন।

তিনি আরও বলেন, আসন্ন বাজেটের প্রধান চ্যালেঞ্জ হবে জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। এটি নিশ্চিত করা না গেলে শিল্প, কৃষি, বিনিয়োগ, কর্মসংস্থান ও সামগ্রিক অর্থনীতিতে নেতিবাচক প্রভাব পড়বে।

প্রতিযোগিতায় বিচারক ছিলেন ড. এস এম মোর্শেদ, সাংবাদিক রিজভী নেওয়াজ, সাংবাদিক রিশান নসরুল্লাহ, সাংবাদিক আতিকুর রহমান ও সাংবাদিক জাফর ইকবাল।

ছায়া সংসদে এদিনের পর্বে বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব বিজনেস অ্যান্ড টেকনোলজিকে পরাজিত করে স্টেট ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশ বিজয়ী হয়। প্রতিযোগিতা শেষে অংশগ্রহণকারী দলগুলোর মাঝে ট্রফি, ক্রেস্ট ও সনদপত্র তুলে দেন বিতর্কের বিচারকরা। 

  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত