স্বপ্ন ভাঙলো বিষাক্ত ছোবলে:
সিংড়ায় মাছ চাষির ১৫ লাখ টাকার স্বপ্ন এখন মরা মাছের স্তূপ
রাকিবুল ইসলাম, সিংড়া (নাটোর) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ২০ এপ্রিল ২০২৬, ১৫:২৫ | আপডেট : ২০ এপ্রিল ২০২৬, ১৭:৪০
নাটোরের সিংড়ায় মাছের পুকুরে বিষ প্রয়োগ করে প্রায় ১৫ লাখ টাকার ক্ষতি করেছে দুর্বৃত্তরা। এক বুক স্বপ্ন নিয়ে পুকুরে পোনা ছেড়েছিলেন চাষি জাহাঙ্গীর আলম। দিনরাত পরিশ্রম করে তিল তিল করে বড় করেছিলেন পাবদা আর গুলশা মাছগুলোকে। হাতে গোনা আর মাত্র দু-এক দিন পরেই মাছ বিক্রির জন্য পুকুরে জাল ফেলার কথা ছিল। মাছের ঝিলিক দেখে অভাব জয়ের যে স্বপ্ন তিনি বুনছিলেন, এক রাতের ‘বিষাক্ত’ প্রতিহিংসা সেই স্বপ্নকে রূপ দিল এক দুঃস্বপ্নে।
সিংড়া উপজেলার ২নং ডাহিয়া ইউনিয়নের লালুয়া পাঁচ পাখিয়া গ্রামে রবিবার (১৯ এপ্রিল) ভোররাতে এই পৈশাচিক ঘটনা ঘটে। জাহাঙ্গীর আলমের ১ একরের দুটি পুকুরে শত্রুতা করে কীটনাশক ঢেলে দেয় দুর্বৃত্তরা। সকালে জাহাঙ্গীর দেখেন, তার স্বপ্নের ফসল সাদা হয়ে মরে ভেসে আছে পানির ওপর। পুকুর পাড়ে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা নিথর মাছ।
ক্ষতিগ্রস্ত মাছ চাষি জাহাঙ্গীর আলম কান্নায় ভেঙে পড়ে বলেন, আমি এখন পুরোই দিশেহারা। আর পাবদা মাছগুলো বাজারজাত করার সব প্রস্তুতি নিয়েছিলাম। দু-এক দিনের মধ্যেই মাছ বিক্রির টাকা হাতে আসার কথা ছিল। কিন্তু আমার সব শেষ হয়ে গেল। যারা আমার এই ক্ষতি করেছে, আমি প্রশাসনের কাছে তাদের সঠিক বিচার চাই।
এই ঘটনায় ভুক্তভোগীর দুলাভাই ডাহিয়া ইউনিয়নের বিয়াশ গ্রামের বাসিন্দা সাইফ মাহমুদ গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, জাহাঙ্গীর আমার আপন শ্যালক। তার এই বিশাল ক্ষতি দেখে তাকে সান্ত্বনা দেওয়ার মতো কোনো ভাষা আমার জানা নেই। অনেক কষ্ট আর ঋণ করে সে এই মাছ চাষ করেছিল। কে বা কাহারা শত্রুতা বা প্রতিহিংসার বশবর্তী হয়ে তার এই ক্ষতি করেছে। আমরা এই পৈশাচিক ঘটনার সুষ্ঠু বিচার চাই। এ বিষয়ে থানায় অভিযোগ দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।
প্রাথমিক হিসেব অনুযায়ী, বিষ প্রয়োগের ফলে প্রায় ১৫ লাখ টাকার মাছ মরে গেছে। ঋণের বোঝা আর পরিবারের ভবিষ্যৎ নিয়ে এখন অন্ধকার দেখছেন এই প্রান্তিক চাষি। এই ঘটনার পর থেকে স্থানীয় অন্যান্য মৎস্যজীবীদের মাঝেও তীব্র আতঙ্ক বিরাজ করছে।
সিংড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রফিকুল ইসলাম জানান, ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। বিষয়টি অত্যন্ত দুঃখজনক। লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
- সর্বশেষ খবর
- সর্বাধিক পঠিত