প্রজ্ঞা-আত্মা’র অনুষ্ঠানে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী
আসন্ন সংসদ অধিবেশনেই তামাক নিয়ন্ত্রণ অধ্যাদেশ আইন হিসেবে পাশ করা হবে
অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: ৯ মার্চ ২০২৬, ১৫:৪৪ | আপডেট : ১০ মার্চ ২০২৬, ০৫:০০
বাংলাদেশে তামাক ব্যবহার অত্যন্ত উদ্বেগজনক পর্যায়ে রয়েছে। দেশের প্রায় ৩ কোটি ৭৮ লাখ প্রাপ্তবয়স্ক মানুষ [৩৫ শতাংশ) তামাক ব্যবহার করেন। তামাক প্রতিদিন কেড়ে নেয় গড়ে ৫৪৮টি প্রাণ, পঙ্গুত্ব বরণ করে অসংখ্য মানুষ। তামাকের আর্থিক ক্ষতি বছরে প্রায় ৮৭ হাজার কোটি টাকা। ‘ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহার [নিয়ন্ত্রণ) [সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৫’ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনে আইন হিসেবে গৃহীত না হলে তামাকের ক্ষয়ক্ষতি ক্রমশ বাড়তেই থাকবে বলে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন বিশেষজ্ঞগণ। আজ সোমবার [৯ মার্চ) বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির জাতীয় নাট্যশালা সেমিনার রমে প্রজ্ঞা [প্রগতির জন্য জ্ঞান) এবং অ্যান্টি টোব্যাকো মিডিয়া এলায়েন্স [আত্মা) আয়োজিত ‘জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় তামাক নিয়ন্ত্রণ: সরকারের সাফল্য, প্রতিশ্রুতি ও জনপ্রত্যাশা’ শীর্ষক গোলটেবিল বৈঠকে এসব বিষয় উঠে আসে।
গোলটেবিল বৈঠকে জানানো হয়, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে দেশে মোট মৃত্যুর ৭১ শতাংশই ঘটে হৃদরোগ, ক্যানসারসহ বিভিন্ন অসংক্রামক রোগে, যার অন্যতম প্রধান কারণ তামাক ব্যবহার। বর্তমান সরকারি দল তাদের নির্বাচনী ইশতেহারে তামাক ব্যবহারজনিত অসংক্রামক রোগ নিয়ন্ত্রণে প্রয়োজনীয় আইনি উদ্যোগ গ্রহণের সুস্পষ্ট প্রতিশ্রুতি প্রদান করেছে, যা অত্যন্ত সময়োপযোগী। জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনেই তামাক নিয়ন্ত্রণ অধ্যাদেশটি আইন হিসেবে পাশ করা হলে তামাক ব্যবহারজনিত অসংক্রামক রোগের প্রকোপ এবং সরকারের স্বাস্থ্য ব্যয় কমবে।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, “নিবার্চনী প্রতিশ্রুতি পূরণে আসন্ন সংসদ অধিবেশনেই তামাক নিয়ন্ত্রণ অধ্যাদেশ আইন হিসেবে পাশ করা হবে।” তিনি আরও বলেন, পরবর্তীতে আইনটির বাস্তবায়নেও তথ্য মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে সবধরনের সহায়তা প্রদান করা হবে।
দৈনিক যুগান্তরের সম্পাদক আবদুল হাই শিকদার বলেন, “তামাক নিয়ন্ত্রণে শক্তিশালী আইনের বিকল্প নেই। জনপ্রত্যাশা পূরণে অধ্যাদেশটি যথাসময়ে আইন হিসেবে পাশের দাবি জানাচ্ছি।”চ্যানেল ২৪-এর নির্বাহী পরিচালক জহিরুল আলম বলেন, “তামাক নিয়ন্ত্রণ আইন শক্তিশালীকরণে গণমাধ্যম শক্তিশালী ভূমিকা পালন করছে, এটা চলমান রাখতে হবে।”
অনলাইন সংবাদমাধ্যম চরচা-এর সম্পাদক সোহরাব হাসান বলেন, “জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় সরকারের উচিত হবে অধ্যাদেশটি হুবহু আইন হিসেবে পাশ করা।”
তামাক ব্যবহারের ফলে ক্যান্সারে আক্রান্ত ভুক্তভোগীদের অভিজ্ঞতা বিনিময় পর্বটি পরিচালনা করেন বাংলাদেশ ক্যান্সার সোসাইটির সভাপতি অধ্যাপক ডা. গোলাম মহিউদ্দিন ফারুক। তিনি বলেন, “আমরা এই অসহায় মানুষদের কন্ঠস্বর তুলে ধরলাম। সরকারের কাছে আমাদের প্রত্যাশা এই আর্তনাদ যেন আর শুনতে না হয়।”
অনুষ্ঠানে আরো বক্তব্য রাখেন আত্মা’র কনভেনর মর্তুজা হায়দার লিটন ও প্রজ্ঞা’র নির্বাহী পরিচালক এবিএম জুবায়েরসহ বিভিন্ন তামাকবিরোধী সংগঠনের প্রতিনিধিবৃন্দ। আত্মা’র কো-কনভেনর নাদিরা কিরণের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে মূল উপস্থাপনা তুলে ধরেন প্রজ্ঞা’র তামাক নিয়ন্ত্রণ বিষয়ক প্রকল্প প্রধান হাসান শাহরিয়ার।
উল্লেখ্য, অধ্যাদেশে তরুণ প্রজন্মকে নিকোটিন আসক্তি থেকে রক্ষায় ই-সিগারেট, ভ্যাপ ও হিটেড টোব্যাকো প্রোডাক্ট প্রভৃতির উৎপাদন, আমদানি, বিপণন ও ব্যবহার সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। নারী ও শিশুসহ অধূমপায়ীদের পরোক্ষ ধূমপানের মারাত্মক ক্ষতি থেকে বাঁচাতে সকল পাবলিক প্লেস ও পাবলিক পরিবহনে ‘ধূমপানের জন্য নির্ধারিত স্থান’ বা ডিএসএ রাখার বিধান কার্যত বাতিলের মাধ্যমে শতভাগ ধূমপানমুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করা হয়েছে। শিশু-কিশোরদের সুরক্ষায় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, হাসপাতাল ও খেলাধুলার স্থানের ১০০ মিটারের মধ্যে তামাক বিক্রি নিষিদ্ধ করার বিধান যুক্ত করা হয়েছে। ধূমপান নিরুৎসাহিত করতে বিক্রয়স্থলে তামাকপণ্য প্রদর্শন নিষিদ্ধসহ তামাকজাত দ্রব্যের বিজ্ঞাপন, প্রচার ও পৃষ্ঠপোষকতার ওপর পূর্ণাঙ্গ নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে।
- সর্বশেষ খবর
- সর্বাধিক পঠিত