ওসমান হাদি হত্যা মামলার প্রধান আসামি ফয়সাল কলকাতা থেকে গ্রেপ্তার

  অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ৮ মার্চ ২০২৬, ১৯:৩৯ |  আপডেট  : ১০ মার্চ ২০২৬, ০১:৪৯

ওসমান হাদিকে খুনের ঘটনায় জড়িত প্রধান দুই আসামিকে কলকাতা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। আটককৃতরা হলেন রাহুল ওরফে ফয়সাল করিম মাসুদ এবং আলমগীর হোসেন। বনগাঁও সীমান্ত এলাকা থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয় বলে জানা গেছে। খবর পশ্চিমবঙ্গের গণমাধ্যম এই সময়-এর। ভারতীয় বার্তা সংস্থা এএনআইও এতথ্য নিশ্চিত করেছে। 

ভারতের পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের স্পেশাল টাস্কফোর্সের (এসটিএফ) সংবাদ বিজ্ঞপ্তির বরাতে রোববার সন্ধ্যায় বার্তা সংস্থা এএনআই’র প্রতিবেদন বলছে, ৭ মার্চ ২০২৬ শনিবার রাতে পশ্চিমবঙ্গের উত্তর চব্বিশ পরগনা জেলার বনগাঁ থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।

এসটিএফ বলছে, দুই বাংলাদেশি তাদের দেশে চাঁদাবাজি, হত্যাসহ গুরুতর অপরাধ করে ভারতে অনুপ্রবেশ করেছে বলে ‘গোপন ও বিশ্বাসযোগ্য’ তথ্য ছিল। তারা সুযোগ পেলে বাংলাদেশে ফিরে যাওয়ার উদ্দেশ্যে বনগাঁ সীমান্ত এলাকায় আশ্রয় নেওয়ার চেষ্টা করছিল।

এই তথ্যের ভিত্তিতে শনিবার গভীররাতে বনগাঁ এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে পাওয়া তথ্যের বরাতে পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের স্পেশাল টাস্কফোর্স বলছে, ফয়সাল করিম মাসুদ ও সহযোগী আলমগীর হোসেন বাংলাদেশের রাজনৈতিক কর্মী ওসমান হাদিকে হত্যা করে ভারতে পালিয়ে যায়। মেঘালয় সীমান্ত দিয়ে তারা অবৈধভাবে ভারতে প্রবেশ করে এবং ভারতের বিভিন্ন স্থানে ঘোরাফেরার পর বাংলাদেশে ‘ফেরার উদ্দেশ্যে’ শেষ পর্যন্ত বনগাঁয় যায়।

এ বিষয়ে মামলা করা হয়েছে জানিয়ে এসটিএফ বলছে, রোববার আদালতে হাজির করার পর তাদের পুলিশ হেফাজতে পাঠানো হয়েছে।

তথ্যমতে, ১২ ডিসেম্বর রাজধানীর পল্টন এলাকায় মোটরসাইকেলে আসা হেলমেট পরিহিত দুর্বৃত্তরা ইনকিলাব মঞ্চ-এর মুখপাত্র হাদিকে গুলি করে এবং এতে তিনি গুরুতর আহত হন। তদন্তকারীদের মতে, হামলাকারীদের মধ্যে একজনকে ফয়সাল করিম মাসুদ হিসেবে শনাক্ত করা হয়েছে। অন্তর্বর্তী সরকার তাকে গ্রেফতারে সহায়তার জন্য ৫০ লাখ টাকা পুরস্কার ঘোষণা করেছে।

ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে এর আগে ফয়সাল করিম মাসুদ, তার কোম্পানি অ্যাপল সফট আইটি লিমিটেড এবং তার পরিবারের সদস্যদের সকল ব্যাংক হিসাব জব্দ করা হয়েছে।’ এর আগে সিআইসি কর্মকর্তা বলেছিলেন, ঘটনাটি ঘটাতে কোনো অর্থায়ন ছিল কি না তা নির্ধারণের জন্য তদন্ত চলাকালীন সম্ভাব্য কোনো অর্থ স্থানান্তর বা গোপন করা ঠেকাতে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

হাদিকে গুলি করার ঘটনার তদন্ত আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলো চালিয়ে যাচ্ছে, আর আর্থিক গোয়েন্দা কর্তৃপক্ষ এই মামলার সাথে সম্পর্কিত সম্ভাব্য আর্থিক যোগসূত্র এবং লেনদেন পরীক্ষা করছে।

  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত