পঞ্চগড়ে মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরে চরম অসন্তোষ নারী সমাজের মানববন্ধন , ডিসির নিকট স্বারকলিপি

  পঞ্চগড় প্রতিনিধি  

প্রকাশ: ৯ মার্চ ২০২৬, ১৮:৫২ |  আপডেট  : ১০ মার্চ ২০২৬, ০১:১৬

আন্তর্জাতিক নারী দিবসে নারী ট্রেইনারকে লাঞ্চনার প্রতিবাদে পঞ্চগড়ে মানববন্ধন কর্মসূচী পালন করা হয়েছে। সোমবার (৯মার্চ) সকালে পঞ্চগড় -বাংলাবান্ধা মহাসড়কের শহীদ মিনারের সামনে সড়কে দাঁড়িয়ে ঘন্টাব্যাপী মানববন্ধনের আয়োজন করে নির্যাতিত নারী সমাজ এবং মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। 

অভিযুক্ত মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের দায়িত্বপ্রাপ্ত উপপরিচালক একেএম ওয়াহিদুজ্জামান রবিবার  লুনা বেগম নামে এক নারীকে ট্রেইনারকে পঞ্চগড় জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ সহ মাথার পেছনে ধরে সজোরে ধাক্কা দেয়।এ ঘটনার পর  কার্যালয়ে ফিরে আসলে সেখানে  উত্তেজনার সৃষ্টি  হলে সেখানে গিয়ে পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

এহেন আচরণের প্রতিবাদে প্রত্যাহার এবং সুষ্ঠু তদন্ত সাপেক্ষে ওয়াহিদুজ্জামানকে জেলা থেকে প্রত্যাহারের দাবীতে এই মানববন্ধন  কর্মসূচী পালন করা হয়। এতে জেলার পাঁচ উপজেলার মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারী, ভুক্তভোগী নারী প্রশিক্ষক লুনা বেগমসহ বিভিন্ন নারী প্রশিক্ষণার্থী অংশ নেন।

 মানববন্ধনে বক্তব্য দেন ভুক্তভোগী নারী লুনা বেগম, হিসাবরক্ষক সিলভিয়া নাসরীন, প্রশিক্ষক জান্নাতুন আয়শা জেলি অফিস সহায়ক মকবুল হোসেন, বোদা উপজেলা অফিসের হিসাব রক্ষক আকতারুল ইসলাম দেবীগঞ্জ অফিসের হিসাব রক্ষক সাইফুল ইসলাম ও সাবেক সঙ্গীত শিক্ষক জুথি আকতার   এবং নারী প্রশিক্ষণার্থীরা।  

মানববন্ধনে বক্তারা অভিযোগ করে বলেন, আন্তর্জাতিক নারী দিবসের কর্মসূচী চলাকালে মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের উপপরিচালক একেএম ওয়াহিদুজ্জামান নারী ট্রেইনার লুনা বেগমকে লাঞ্ছিত করেন। লুনা বেগম জানান নারী দিবস পালনে অনুষ্ঠানে উপস্থিত হতে একটু দেরী হওয়ায় তার সাথে অসঙ্গতিপূর্ন আচরন করা হয়। নারী কর্মীরা এসময় অভিযোগ করেন কয়েকজনকে ওই সমাজসেবা কর্মকর্তা কুপ্রস্তাব ও দেন। অশ্রাব্য ভাষায় গালি দেন যে সব গালি মুখে বলা সম্ভব নয়। এসময় বক্তারা আরো বলেন ২০২০ সালে পঞ্চগড়ের বোদা উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা হিসেবে যোগদান করেন একেএম ওয়াহিদুজ্জামান।

পরে ক্রমানয়ে দেবীগঞ্জ ও পঞ্চগড় সদর উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা ও জেলা কার্যালয়ের উপপরিচালকের অতিরিক্ত দায়িত্ব পান তিনি। তারা আরও জানান, গত বছরের ২৭ নভেম্বর চাপাইনবাবগঞ্জে তার বদলি হলে ক্ষমতার দাপটে এখনো তিনি চারটি অফিসে দিব্যি রাজত্ব করছেন।এছাড়াও তিনি দীর্ঘদিন ধরে অফিসের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সঙ্গে অশালীন আচরণ করে আসছেন, যা সরকারি চাকরি বিধিমালার পরিপন্থি।এ সময় তারা ২৪ ঘন্টার মধ্যে একেএম ওয়াহিদুজ্জামানকে অপসারণের দাবি করেন।

 তারা একই সঙ্গে দাবি বাস্তবায়ন না হলে কর্মকর্তা-কর্মচারীরা কর্মবিরতিসহ কঠোর কর্মসূচী গ্রহণ করবেন বলেও হুঁশিয়ারি দেন।মানববন্ধন শেষে অংশগ্রহণকারীরা জেলা প্রশাসক বরাবর একটি স্মারকলিপি প্রদান করেন।

এদিকে রবিবার ওই নারী ট্রেইনারকে লাঞ্চিত ঘটনার বিষয় জানতে  পেরে সংবাদকর্মীরা পেশাগত দায়িত্বপালনে ওয়াহিদুজ্জামানের দপ্তরে গেলে তিনি উত্তেজিত হয়ে ওঠেন। এসময় নারী ট্রেইনারকে লাঞ্চিত হওয়ার বিষয়টি অস্বীকার করেন। এসময় উত্তেজিত হয়ে সংবাদকর্মীর সাথে অশালীন আচরন করেন। এসময় তিনি এক সাংবাদিককে হাত উঁচিয়ে বলেন  ‘তুই কয়টাকার মালিক’ তোর বউ ও গোষ্ঠি সহ কিনে নিবো। তিনি আরো বলেন আমার নামে ২৫ বিঘা, বউয়ের ২৫ বিঘা ও ছেলের ২৫ বিঘা জমি আছে। 

ঘটনার এক পর্যায়ে উপস্থিত সংবাদ কর্মীরা তাকে বলেন আপনি তো চার মাস আগে বদলী হয়েছেন যান না কেনা। আপনি তো দুর্নীতিগ্রস্থ। এসময় ওয়াহিদুজ্জামান সংবাদকর্মীর কাছে অসংলগ্ন কথাবার্তা বলেন।

  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত