সংকট কাটাতে ভারত থেকে ডিজেল আমদানির পরিকল্পনা

  অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ৯ মার্চ ২০২৬, ১২:৩৫ |  আপডেট  : ১০ মার্চ ২০২৬, ০৪:৪৬

প্রতীকী ছবি

জ্বালানি তেলের চলমান সংকট মোকাবিলায় বিভিন্ন উৎস থেকে আমদানি বাড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এর অংশ হিসেবে ভারত থেকে অতিরিক্ত ৫০ হাজার টন ডিজেল আমদানির পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্র এ তথ্য জানিয়েছে।

জ্বালানি বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, ভারতীয় প্রতিষ্ঠান নুমালিগড় রিফাইনারি লিমিটেড (এনআরএল) থেকে পাইপলাইনের মাধ্যমে ডিজেল আমদানি করে বাংলাদেশ। বর্তমানে মাসে প্রায় পাঁচ হাজার টন ডিজেল কিনছে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন ((বিপিসি)। তবে, চলমান পরিস্থিতিতে এনআরএল থেকে অতিরিক্ত ৫০ হাজার টন ডিজেল আনার বিষয়টি বিবেচনায় নেওয়া হচ্ছে।

প্রসঙ্গত, ভারত থেকে পাইপলাইনে ডিজেল আমদানির জন্য বিপিসি ও এনআরএলের মধ্যে ২০১৭ সালের ২২ অক্টোবর ১৫ বছর মেয়াদী একটি চুক্তি সই হয়। ওই চুক্তির আওতায় ভারতের শিলিগুড়ি ডিপো থেকে বাংলাদেশের পার্বতীপুর ডিপো পর্যন্ত স্থাপিত পাইপলাইনের মাধ্যমে ডিজেল সরবরাহ করা হয়।

চুক্তি অনুযায়ী, ২০২৬ সালে বাংলাদেশ সর্বোচ্চ এক লাখ ৮০ হাজার টন ডিজেল আমদানি করার কথা থাকলেও বর্তমানে মাসে মাত্র পাঁচ হাজার টন করে ডিজেল কেনা হচ্ছে। তাই এর পরিমাণ বাড়ানোর সুযোগ রয়েছে। ইতোমধ্যে বিষয়টি নিয়ে বাংলাদেশ সরকারের উচ্চপর্যায়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে ভারতীয় দূতাবাসের প্রতিনিধিদের বৈঠকও হয়েছে।

জ্বালানি বিভাগ জানায়, ২০২৩ সালে ভারত বাংলাদেশকে ৩৫ হাজার ৭১৮ টন, ২০২৪ সালে ২৮ হাজার ২০৪ টন এবং ২০২৫ সালে এক লাখ ২৪ হাজার ২১৬ টন ডিজেল সরবরাহ করেছে। এছাড়া ভারত থেকে বিভিন্ন সময়ে জেট ফুয়েল, ফার্নেস অয়েল ও অকটেনও আমদানি করা হয়েছে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে বিপিসির এক কর্মকর্তা বলেন, “তেলের সংকট যাতে না হয় সেজন্য আমরা ভারত ছাড়াও আরও কয়েকটি উৎস থেকে আমদানির পরিকল্পনা করছি। আপাতত কোনও মজুদ ঘাটতি নেই। ভবিষ্যতের কথা ভেবেই এসব পরিকল্পনা করা হচ্ছে। সুতরাং, এতে আতঙ্কিত হবারও কিছু নেই।”

মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, রবিবার ঢাকায় নিযুক্ত ভারতের হাইকমিশনার প্রণয় ভার্মাকে ডিজেলে আমদানির বিষয়ে অনুরোধ জানিয়েছে অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী।

সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, জ্বালানি তেলের মজুত স্বাভাবিক রাখা এবং নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ নিশ্চিতেই জরুরি ভিত্তিতে এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে চুক্তি সম্পন্ন হলে তা দেশের বর্তমান জ্বালানি পরিস্থিতি স্থিতিশীল করতে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে বলে মনে করা হচ্ছে।

কা/আ

  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত