২৭০ কোটি টাকার মালিক বলে নিজের স্বীকারোক্তি
পঞ্চগড়ে মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তার অঢেল সম্পদের উৎস কি!
পঞ্চগড় প্রতিনিধি
প্রকাশ: ৯ মার্চ ২০২৬, ১৮:৪৮ | আপডেট : ১০ মার্চ ২০২৬, ০২:৫৪
জেলা মহিলা বিষয়ক কার্যালয়ের বিতর্কিত অতিরিক্ত দায়িত্বে থাকা উপ-পরিচালক ও বোদা উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা এ কে এম ওয়াহিদুজ্জামান নিজেকে প্রায় ২৭০ কোটি টাকার অধিক সম্পদের মালিক বলে দাবি করেছেন। তার এত বিপুল সম্পদের উৎস নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে ইতোমধ্যে ব্যাপক প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে।
জানা যায়, রবিবার এক ঘটনাক্রমে পঞ্চগড় জেলা মহিলা বিষয়ক কার্যালয়ে বসে সংবাদকর্মীদের ঔদ্ধত্যপূন আচরনের সঙ্গে তিনি জানান, তার মালিকানায় রয়েছে মোট ৭৫ বিঘা জমি। এর মধ্যে নিজের নামে ২৫ বিঘা, স্ত্রীর নামে ২৫ বিঘা এবং ছেলের নামে ২৫ বিঘা জমি রয়েছে।
স্থানীয় বাজারদর অনুযায়ী ১ কাঠা জমির মূল্য প্রায় ১৮ লাখ টাকা বলে তিনি উল্লেখ করেন। হিসাব অনুযায়ী ২০ কাঠায় ১ বিঘা, ফলে ৭৫ বিঘা জমিতে মোট ১৫০০ কাঠা জমি হয়। সেই হিসাবে তার জমির বাজারমূল্য দাঁড়ায় প্রায় ২৭০ কোটি টাকা। এছাড়াও গুলশানের মতো স্থানে তার একাধিক বাড়ী রয়েছে বলে বলেন।
একজন সরকারি কর্মকর্তার এত বিপুল সম্পদের উৎস নিয়ে ইতোমধ্যে নানা প্রশ্ন উঠেছে। স্থানীয় সচেতন মহলের দাবি, সরকারি চাকরির সীমিত আয়ে এমন বিপুল সম্পদ অর্জন কীভাবে সম্ভব তা তদন্ত করে দেখা প্রয়োজন।
এদিকে তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ রয়েছে বলেও অভিযোগ উঠেছে। এসব অভিযোগের প্রেক্ষিতে তাকে বদলির আদেশ দেওয়া হলেও অজ্ঞাত কারণে তিনি এখনো পঞ্চগড়েই দায়িত্ব পালন করছেন বলে জানা গেছে।
বর্তমানে তিনি বোদা উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করার পাশাপাশি দেবীগঞ্জ উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তার অতিরিক্ত দায়িত্বও পালন করছেন।সচেতন নাগরিকদের মতে, যদি শুধু জমির মূল্যই প্রায় ২৭০ কোটি টাকা হয়ে থাকে, তবে ব্যাংকে থাকা অর্থ, এফডিআর, স্বর্ণালংকার, বাড়ি ও অন্যান্য সম্পদ মিলিয়ে তার মোট সম্পদের পরিমাণ আরও অনেক বেশি।এছাড়া অভিযোগ রয়েছে, ঢাকার গুলশান এলাকায় তার একাধিক বাড়ি রয়েছে, যার মূল্য এই হিসাবের মধ্যে ধরা হয়নি।এ বিষয়ে স্থানীয় সচেতন নাগরিক সমাজ , স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত তথ্য জাতীর কাছে তুলে ধরতে সরকারের উচ্চ পর্যায়ের হস্ত ক্ষেপ কামনা করেছেন।
- সর্বশেষ খবর
- সর্বাধিক পঠিত