মাদারীপুরে বিয়ের সাত মাস পর শ্বশুরবাড়িতে এক গৃহবধূর রহস্যজনক মৃত্যু

  এসআর শফিক স্বপন , মাদারীপুর প্রতিনিধি:

প্রকাশ: ৯ মার্চ ২০২৬, ১০:৪১ |  আপডেট  : ১০ মার্চ ২০২৬, ০১:১৬

মাদারীপুরে বিয়ের সাত মাস পর শ্বশুরবাড়িতে সাথী আক্তার নামে এক গৃহবধূর রহস্যজনক মৃত্যু হয়েছে। রোববার (৮ মার্চ) সকালে মাদারীপুর সদর উপজেলার পাঁচখোলা ইউনিয়নের ৭নং ওয়ার্ডের উত্তর মহিষেরচর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
এ দিকে এ ঘটনায় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে (ফেসবুক) একটি ভিডিও ভাইরাল হয়। ওই ভিডিওতে দেখা যায়, মৃত্যুর আগে গৃহবধূ সাথী আক্তারকে কুপ্রস্তাব দিচ্ছেন শ্বশুর গোলাম বেপারী। প্রতিবাদ জানান ওই গৃহবধূ। এরপর পরদিন রোববার সকালে মিলল সাথীর ঝুলন্ত মরদেহ।
স্বজনদের অভিযোগ, শ্বশুরের কুপ্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় ওই গৃহবধূকে শ্বাসরোধে হত্যা করে মরদেহ ঝুলিয়ে রাখেন শ্বশুরবাড়ির লোকজন। খবর পেয়ে নিহতের মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মাদারীপুর ২৫০ শয্যা জেলা হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। এরইমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে নিহতের ময়নাতদন্তও।

স্থানীয় বাসিন্দা নাদিম হাওলাদার বলেন, ‘সাথীর সঙ্গে ঘটে যাওয়া এমন অন্যায়ের যথাযথ শাস্তি দাবি করছি। ভিডিওটি না থাকলে ঘটনা শ্বশুরবাড়ির লোকজন আত্মহত্যা বলে চালিয়ে দিত। কোনো অবস্থাতেই যেন অপরাধীরা আইনের ফাঁকফোকড় দিয়ে বের হয়ে যেতে না পারে।’

সাথীর চাচা কালাম খাঁ বলেন, ‘পুত্রবধূর সঙ্গে এমন কর্মকাণ্ড আমরা এলাকার কেউই মেনে নিতে পারছি না। এই ঘটনায় সাথীর শ্বশুরের ফাঁসি চাই।’

মাদারীপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) ফারিহা রফিক ভাবনা জানান, ‘খবর পেয়ে মরদেহ উদ্ধার করে মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। স্বজনদের অভিযোগের প্রেক্ষিতে নেয়া হবে আইনগত ব্যবস্থা।’
স্বজনদের দাবী কু প্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় শ্বাসরোধ করে হত্যার পর লাশ ঝুলিয়ে রাখে শশুর বাড়ির লোকজন।

স্বজনরা জানান, সদর উপজেলার উত্তর মহিষেরচর গ্রামের গোলাম বেপারীর ছেলে কাইয়ুম বেপারীর সঙ্গে ৭ মাস আগে বিয়ে হয় একই এলাকার ওহিদুল খাঁর মেয়ে সাথী আক্তারের। বিয়ের তিনদিনের মাথায় কাইয়ুম জীবিকার তাগিদে প্রবাসে পাড়ি জমান। এরপর ওই গৃহবধূর ওপর নজর পড়ে শ্বশুরের, দেন মানসিক যন্ত্রণা ও কুপ্রস্তাবও। 

এ বিষয়ে সদর উপজেলার পাঁচখোলা ইউনিয়নের ৭নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য রুবেল হাওলাদার বলেন, ‘এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তপূর্বক দোষীদের বিচার দাবি করছি। প্রশাসনের কাছে অনুরোধ থাকবে, যাতে কোনো নিরহ মানুষ এই ঘটনায় হয়রানী না হয়।’

কা/আ 

  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত